স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা


প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ০৯ মে ২০১৭

পারিবারিক কলহের জের ধরে সিদ্ধিরগঞ্জে মিতু আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে স্বামী মোশাররফ হোসেন (৪৩)।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত স্বামী ও স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ বলছে, স্বামী মোশাররফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিল। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় জালকুড়ির মাঝপাড়া এলাকায়।

নিহত দম্পতির ছেলে রায়হান জানায়, মঙ্গলবার সে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। নামাজ শেষ করে আসার পর রায়হান দেখে তার বাবা মোশাররফের হাতে বটি। কিছু বুঝে উঠার আগেই বাবা তাকে লাথি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দুই গেটে দুটি তালা ঝুলিয়ে দেয়। তখনও ঘরের ভেতরে ছোট বোন মুন্নি ছিল।

মুন্নি জানায়, বাবা এক রুমে ভাইকে নিয়ে ঘুমাতো। আমি আর মা আরেক রুমে ঘুমাতাম। ভোরে বাবা আমাদের রুমে এসে মাকে হত্যার জন্য কোপানো শুরু করে। মা ভয়ে খাটের নিচে গিয়ে অবস্থান নেয়। আমি আর মা চিৎকার শুরু করি। বাবা আমাকে বুকের মধ্যে লাথি মেরে চুপ থাকতে বলেন। বাবা মাকে খাটের নিচ থেকে টেনে এনে বটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আমি চিৎকার করছি বলে বাবা আমার মুখে ও বুকে লাথি মেরে আমাকে বাথরুমের ভেন্টিলেটার দিয়ে ঘরের বাইরে ফেলে দেন। পরে বাবা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহত মোশাররফের বড় ভাই নুর সালাম বলেন, আমরা চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালা বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও দরজা ভাঙতে পারিনি। এক পর্যায়ে মোশাররফ ঘরের দরজা ও জানালায় বিদ্যুতের তার জড়িয়ে দেয়। সে মাদকাসক্ত ছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (সার্কেল-‘ক’) মো. শরফুদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তবে আমরা শুনতে পেরেছি স্বামী মোশাররফ হোসেন মাদকাসক্ত ছিল। এ নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামী ও স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

সিপলু/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।