৫টি ফুলের নাম বলতে না পারলে পাসপোর্ট মেলে না কক্সবাজারে!


প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ১০ মে ২০১৭
ফাইল ছবি

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তার পুরো নাম ও ৫টি ফুলের নাম বলতে না পারায় সরকারি সব প্রক্রিয়া শেষ করেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না রাবেয়া নামে কক্সবাজারের হতদরিদ্র এক গৃহিণী।

শুধু তাই নয়, জীবনেও এই গৃহিণী আর পাসপোর্ট পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে তার আবেদন ঝুঁড়িতে ফেলে দিয়েছেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. মাসুম।

একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার বঞ্চিত করা এই গৃহিণীকে ইংরেজিতে গালিগালাজপূর্বক নাজেহাল করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন পাসপোর্ট কর্মকর্তা। গত ২ মে দুপুরে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তার অফিসে প্রকাশ্যে এ ঘটনাটি ঘটে। বুধবার দুপুরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা হয়।

একই দিন উক্ত পাসপোর্ট কর্মকর্তা অজপাড়া থেকে আসা শুধু অশিক্ষিত গৃহিণী রাবেয়াকে নয়, পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে আসা এরকম আরও ডজনখানেক আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূক্তভোগী কয়েকজন জানান, পাসপোর্ট কর্মকর্তা শিক্ষিত-অশিক্ষিত পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বাছ বিচার না করে অনর্গল ইংরেজিতে কথাবার্তা বলে হয়রানি করেছেন। তার অবস্থা দেখে মনে হবে, আবেদনকারীরা যেন তার কাছে পড়ালেখা করতে গিয়েছেন। তিনিও ‘শিক্ষক ভাব’ নিয়ে পড়াচ্ছেন। এরকম চিত্র প্রতিদিনের।

অভিযোগ রয়েছে, আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. মাসুম যোগদানের পর থেকে পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি কিছুটা কমলেও কমেনি পাসপোর্টপ্রার্থীদের হয়রানি। খোঁড়া অজুহাতে ফাইল ছুঁড়ে ফেলা হয় অনেক সময়। বকাবকি করা হয় আবেদনকারীদের।

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা পশ্চিম মোকতারকূল এলাকার পারভীন আকতার জানান, তিনি গত এক মাস আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। ১ মে ছিল ডেলিভারির তারিখ। ২ মে পাসপোর্টর জন্য গেলে তিনি দেখেন, তার আবেদন ফরম পাসপোর্ট কর্মকর্তার কাছেই পড়ে আছে। তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশের কাছে পাঠানো হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তাকে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন পাসপোর্ট কর্মকর্তা। শেষে অনেকটা নাজেহাল করে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. মাসুমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কক্সবাজার রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকা। তাই সন্দেহজনক পাসপোর্ট আবেদনকারীকে তার এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রাম, জেলার নাম জিজ্ঞেস করা হয়। একজন ওই মহিলাকে এরকম প্রশ্ন করা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ৫টি ফুলের নাম। কিন্তু তিনি সদুত্তর দিতে পারেন নি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।