মেহেরপুরের আম যাবে ইউরোপে
গত বছর আম রফতানিতে সফলতার পর এবারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেহেরপুরের আমচাষিরা। বাগানে বাগানে চলছে আমে ব্যাগ পরানোর উৎসব। এসব আম যাবে ইউরোপের দেশগুলোতে।
গেল বছর এ জেলা থেকে শুধু হিমসাগর আম বিদেশে গেলেও এবার ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম নেবেন বায়াররা। তবে চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেশি। ফলে কাঙ্খিত দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন চুক্তিবদ্ধ চাষিরা।
মেহেরপুর শহরের সাইদুর রহমান জানান, গত বছরে ১৫ হাজার আম দিয়েছিলেন বায়ারদের। ভালো লাভ পাওয়ায় এবার দেড় লাখ আমে ব্যাগ পরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরে আম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিটি আমে ব্যাগ পরাতে খরচ হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা। আম সংগ্রহ পর্যন্ত রফতানিযোগ্য এক কেজি আম উৎপাদন করতে খরচ দাঁড়াবে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আবার বায়ররা বাছাইকৃত আম ছাড়া নেবেন না। ফলে ছোট ও দাগসহ আম নিয়ে বিপাকে পড়বেন চাষিরা। গত মৌসুমে কেজি প্রতি আমের দাম পাওয়া গেছে ৯৫ টাকা। এ বছরে একই দাম থাকলে লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। ফলে আম রফতানিতে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা।
গত বছরে আম রফতানির জন্য বায়ারদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হন জেলার ২৪ জন আমচাষি। তবে আম দেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। আম রফতানিতে সফল হওয়ায় চলতি মৌসুমে বায়ারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শতাধিক আমচাষি। বাজার দর ভালো পাওয়ায় বিদেশে আম পাঠানোর আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মাঝে।
জেলার হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, আম্রপালি আমের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। গত মৌসুমে শুধু হিমসাগর আম বিদেশে রফতানি হলেও এবার ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বায়াররা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের চুক্তিবদ্ধ চাষি সাখাওয়াত জানান, এ বছরে গাছে গাছে আম এসেছিল প্রচুর। ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু দফায় দফায় কালবৈশাখীর ঝড়ে কেড়ে নিয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। এবারও তিনিও বিদেশে আম পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু বায়ারদের কাছ থেকে কাঙ্খিত দাম পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। আবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গাছের বেশিরভাগ আম। কিন্তু আম বাছাইয়ের সময় বেশি পরিমাণ বাদ পড়লে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। এতে লোকসানের পাল্লা ভারি হবে চাষিদের।
তবে আশার বাণী শুনালেন বায়ার প্রতিনিধি মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দাম নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই চাষিদের। কৃষকদের খরচের কথা মাথায় রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, কৃষি বিভাগ ও চাষিরা একসঙ্গে বসে মূল্য নির্ধারণ করবে। চাষিরা যাতে কোনো প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন না হন সে দিক খেয়াল রেখেই আমের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গেল মৌসুমে মেহেরপুর থেকে ১২ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হলেও এবার কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২০০ মেট্রিক টন।রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চীন ও জাপান থেকে ব্যাগ আমদানি করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রফতানিকৃত এ ব্যাগ কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরে ব্যাগ পরানো এসব আম ইউরোপের দেশগুলোতে রফতানি করা হয়েছে। সেখান থেকে রাজশাহী ও সাতক্ষীরার আমের ব্যাপারে খারাপ রিপোর্ট আসলেও মেহেরপুরের আম ছিল শতভাগ নিরাপদ। ফলে এ বছর বায়ারদের চোখ মেহেরপুরের আমের ওপর।
আসিফ ইকবাল/আরএআর/জেআইএম