নিখোঁজের ৬ মাস পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার


প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ১৫ মে ২০১৭

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পর মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৯) নামে এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের (বারারী বাড়ী) একটি সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত কঙ্কাল উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ যুবক উপজেলার বাহাদুরসাদী গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। লামিয়া নামে তার ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাইরে যাওয়ার কথা বলে সাখাওয়াত বাড়ি থেকে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। ওইদিন রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরেননি। তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে পরিবারের লোকজন তা বন্ধ পান। পরে ঘটনার ব্যাপারে নিখোঁজের স্ত্রী আয়েশা আক্তার (২৪) বাদী হয়ে ঘটনার দুইদিন পর (১৮ নভেম্বর) কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ (নং ৫৯৬) ডায়েরি করেন। এর প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের গাধাইয়া গ্রাম থেকে সাখাওয়াতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন। যা কালীগঞ্জ থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তবে নিখোঁজ সাখাওয়াতের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।

অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ঠিক ৬ মাস পর প্রতিবেশী হুমায়ূনের পার্শ্ববর্তী সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিবেশী হুমায়ূনের বাবা আলী আফছার, মা হেলেনা বেগম, মামা ইসমাইল, মামী রহিমা বেগম ও প্রতিবেশী মোশারফের স্ত্রী লুৎফুন্নাহারকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামটি জুয়া এবং মাদকের জন্য প্রায়ই আলোচিত-সমালোচিত। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যে কারণে ওই গ্রামটি মাদক ও জুয়ার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ আছে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ওই  গ্রামের বিভিন্ন টেকে (উচু টিলা বনভূমি) প্রতিদিন চলে জুয়ার আসর। সন্ধ্যা থেকে রাতব্যাপী শুরু হয় মাদক সেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের মিলন মেলা।

সূত্র আরও জানায়, নিখোঁজ সাখাওয়াত নিজেও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে মাদক আনা নেয়ার কাজ করতেন। তিনি ছিলেন উপজেলা ও বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মাদক চক্রের মূলহোতা মাসুমের সহযোগী। কিন্তু এলাকায় মাদক চক্রের হোতা হয়েও মাসুম বর্তমানে থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা মাদকের কারণেই সাখাওয়াত খুন হতে পারে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই এবং সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে সাখাওয়াতের কঙ্কাল উদ্ধার করি। এ সময় উদ্ধার হওয়া সাখাওয়াতের জামা-কাপড় দেখে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ চিহ্নিত করেন। এ ছাড়াও সাখাওয়াতের সামনের একটি দাত ছিল না সেটিও চিহ্নিত করেন।

আব্দুর রহমান আরমান/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।