হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশুটি
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। কাউকে দেখলেই আঁতকে উঠছে সে। তখনও শিশুটির রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সেরা ফুটফুটে শিশুটি সব রকম চিকিৎসা দিচ্ছেন।
শিশুটির এই অবস্থা দেখে বিলাপ করছিলেন মা। এ সময় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ওই কক্ষে সবাই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীর খরতৈল এলাকায় ৮ বছরের মাদরাসা পড়ুয়া এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
শিশুটির মা জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি একটি গার্মেন্টে চাকরিতে চলে যান। শিশুটির রিকশাচালক বাবাও রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যান। শিশুটি তখন ঘরে একাই ছিল।
একপর্যায়ে তাদের ভাড়া বাসার অপর এক ভাড়াটিয়া মাহফুজ (১৭) শিশুটিকে জোরপূর্বক তার ঘরে নিয়ে মুখে রুমাল চেপে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটির চিৎকারে অপর বাড়াটিয়ারা ওই ঘরে আসতেই লম্পট বখাটে মাহফুজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ধর্ষককে আটক করে।
মেয়ের খবর শুনে মা গার্মেন্ট থেকে বাসায় ফিরে মেয়েকে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসাপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে চিকিৎসকরা গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুপুরে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভুষন দাস বলেন, শিশুটির প্রাথমিক অবস্থায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ছাদেকা আফরিন লুসি জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/পিআর