প্রযুক্তিতে পিছিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দমকল বাহিনী


প্রকাশিত: ০৬:১৬ এএম, ৩১ মে ২০১৭

ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে দমকল বাহিনী (ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) এমনটিই মনে করছেন সচেতন মহল। উন্নত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দমকল বাহিনীকে আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন সুধি সমাজ।

ঠাকুরগাঁও জেলায় অগ্নিকাণ্ড রোধ ও যেকোনো দুর্ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দমকল বাহিনী। অথচ ঠাকুরগাঁওয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য উন্নত যন্ত্রাংশ নেই এই বাহিনীর সদস্যদের কাছে। কোনো দুর্ঘটনায় কিছু পুরোনা যন্ত্রাংশ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কোনো মতে চলছে এই বাহিনীর কার্যক্রম।

গত ৩০ মে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সালন্দর এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশা মুখোমুখি দূর্ঘটনায় দুই নারী নিহত ও শিশুসহ ৮ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু উন্নত যন্ত্রাংশের অভাবে উদ্ধার অভিযান চালাতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে বাহিনীর কর্মীদের।

তবে কিছু সাধারণ মানুষ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় হতাহতের সংখ্যা বাড়েনি বলে ফায়ার সার্ভিসের দাবি।অপরদিকে অনেকেই অভিযোগ করছেন ফায়ার সার্ভিসের উন্নত প্রযুক্তি থাকলে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটতো না।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও শহরের লাবনী অ্যালুমোনিয়াম স্টোর নামের একটি দোকানের পেছনের গুদামে আগুন লাগে। ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের পানি বহনের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছার পরই নষ্ট হয়ে যায়। পরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে শহরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সালন্দর এলাকার দুর্ঘটনায় নিহত এক নারীর স্বামী ইদু মোহাম্মদ জানান, ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কিন্তু উন্নত যন্ত্রাংশ যদি থাকতো আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে বাচাঁনো যেত। তাই ফায়ার সার্ভিস বাহিনীকে উন্নত প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাই।

শহরের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও শহরে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের পুরোনা একটি পানিবাহী গাড়ি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। তাই উন্নত গাড়ি ও দক্ষ কর্মী হলে বড় দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে সহজ হবে এই বাহিনীর।

সমাজসেবক ইয়াসিন আলী জানান, আগে ফায়ার সার্ভিস শুধু অগ্নিকাণ্ড রোধে ভূমিকা পালন করতো। কিন্তু বর্তমানে সকল দুর্ঘটনায় এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই উন্নত প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ও কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করলে যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলা করা সহজ হবে তাদের কাছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠাকুরগাঁও দমকল বাহিনীর একজন সদস্য জানান, বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা দমকল বাহিনী এখনো ডিজিটাল হতে পারিনি। এখনো আমরা সেই আগের ট্রেনিং ও যন্ত্রাংশ দিয়ে উদ্ধার অভিযান করে থাকি। আমাদেরকে যদি আধুনিক যন্ত্রাংশ দেয়া হয় ও ট্রেনিং দেয়া হয় তাহলে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এছাড়াও আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় যে উদ্ধার কাজ করে থাকি আধুনিক যন্ত্র ব্যাবহারে মাধ্যমে উদ্ধার দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং প্রাণহানী হতে রক্ষা করা যাবে।

ঠাকুরগাঁও দমকল বাহিনীর উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, আমরা সকল দুর্ঘটনা তাৎক্ষণিভাবে মোকাবেলা করছি। কিন্তু আমাদের অনেক কিছু ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক সময় বড় দুর্ঘটনায় অভিযান পরিচালনা করতে উন্নত যন্ত্রাংশের জন্য হিমসিম খেতে হচ্ছে। আমরা যদি বাইরের দেশের মত উন্নত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পাই তাহলে আরো উন্নত হবে এই বাহিনী।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, দেশ সকল দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সকল দুর্ঘটনায় দমকল বাহিনীর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঠাকুরগাঁওয়ে এই বাহিনীকে উন্নত যন্ত্রাংশ ও নতুন প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হবে।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।