মৃত ব্যক্তির টাকা আত্মসাত করলেন মহিলা ইউপি সদস্য!
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলুর বিরুদ্ধে মৃতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক দুর্ঘনায় নিহত স্কুলছাত্রের পরিবারের নামে সরকারি জি.আর ফান্ডের ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ। কিন্তু নিহতের বাবা আসকর আলী আট হাজার টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ১৭ উপজেলার সাহারপুর গ্রামের আসকর আলীর ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১৬) মোটরসাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মারা যায়। নিহতের পরিবারের জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জি.আর ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু অফিসের যাবতীয় কাজে সহযোগিতা করেন।
এর মধ্যে ফেরদৌসের মিলাদ মাহফিল কয়েকদিন আগে ওই ইউপি সদস্য নিহতের পরিবারকে আট হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর নিহতের বাবা আসকর আলীকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বদলগাছী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যান ইউপি সদস্য।
এরপর আট হাজার টাকা আসকর আলীকে দেয়া হয়েছে মর্মে একটি চেক বের করে তাতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। স্বাক্ষর করার সময় আসকর আলী চেকে টাকার ঘরে ২০ হাজার টাকা লেখা আছে বিষয়টি জানতে চাইলে ইউপি সদস্য তার হাত থেকে চেকটি ছিনিয়ে নেন। এরপর আরও দুই হাজার টাকা তাকে দিয়ে বলেন এটাই আপনার পাওনা বাকি টাকা।
নিহতের বাবা আসকর আলী বলেন, আমার সঙ্গে প্রতারণা করে ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু চেকে স্বাক্ষর করে নেয়। আবার পাওনা টাকাও আত্মসাৎ করেছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
নিহতের মা বিউটি বেগম বলেন, জীবনে অনেক কিছু শুনেছি। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অনুদানের টাকা আত্মসাত করার কথা কখন শুনিনি। এই মহিলা খুব বাজে কাজ করেছেন। আমরা আমাদের অনুদানের সম্পূর্ণ টাকা চাই।
বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ফেরদৌসের পরিবারের নামে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জি.আর ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা অনুদানের চেক এসেছিল। সেটি স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলুর মাধ্যমে ওই পরিবারকে দেয়া হয়েছে। তবে আত্মসাতের বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন নিলু টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই পরিবারকে চেকের সম্পূর্ণ টাকা দেয়া হয়েছে।
ইতোপূর্বে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি চালে স্বজনপ্রীতি, সরকারি বরাদ্দের সোলার প্যানেলের সুবিধাভুগীদের কাছ হতে টাকা নেয়া, টিআর-কাবিখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রচার হলেও রহস্যজনকভাবে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব অনিয়মের সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জড়িত বলে সুধীমহল মনে করছেন।
আব্বাস আলী/এএম/আরআইপি