খুলনার সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের তোড়জোড়
খুলনার আসন্ন ৬ ও ৭ জুনের সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। তবে সম্মেলনে কাউন্সিলের পরিবর্তে সিলেকশন হবার সম্ভাবনা শতভাগ থাকায় নিশ্চিন্তে আছেন অনেকেই। এমনকি যাদের নামে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তারাও যথারীতি এবারের সম্মেলনে নেতৃত্ব পেতে চলেছেন বলে জানা গেছে।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২ অক্টোবর খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পীকে সভাপতি এবং শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের স্থলে মাত্র ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১২ সালের ২ জুন ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
অপরদিকে, সম্মেলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি খুলনা জেলা ছাত্রলীগের ১৫ সদস্যের একটি অপূর্ণাঙ্গ কমিটি এক বছরের মেয়াদের জন্য ঘোষণা করে। এই কমিটির সভাপতির মো. আরাফাত হোসেন পল্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর। ইতিমধ্যে সংগঠনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে ওঠে খুলনা ছাত্রলীগ। পদবীর জন্য ছুটতে শুরু করেছেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি’র কাছে। তারা যাদেরকে নির্ধারণ করে দেবেন তারাই আগামী দিনে খুলনায় ছাত্রলীগের পরিচালক হতে পারবেন এমনটাই ধারণা ছাত্রলীগের নেতাদের। এদের মধ্যে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী, বিবাহিত এবং অছাত্রের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও জামায়াত-শিবিরের সাথে আতাত করে চলা নেতাও রয়েছেন সেই তালিকায়।
সম্মেলনের ব্যাপারে জেলা ছাত্র লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর বলেন, উপজেলাগুলোর কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। ফলে কাউন্সিলর নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেবে তাই পালন করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা সম্মেলন করতে প্রস্তুত রয়েছি।
ডুমুরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ কোন সময় পাইনি।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, আমরা চাই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু বর্তমানে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি না থাকায় কাউন্সিলর নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি বলেন, হয়তো সিলেকশন হতে পারে। তা হলেও ছাত্ররাই আগামী দিনে ছাত্রলীগের হাল ধরুক তা আমরা চাই।
আলমগীর হান্নান/এসএস/পিআর