তাহেরপুরে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে প্রবাসীর স্ত্রীর
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে পাওনা টাকা চাওয়ার জের ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন সোনিয়া নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। রাতের আধারে তার বাড়িতে দু’দফা আগুন দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়েছে। নিজের নিরাপত্তাসহ পাওনা টাকা উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হয়েও কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
থাইল্যান্ড প্রবাসী তাহেরপুর পৌরসভা বাছিয়াপাড়ার শহিদুল আলম বাবুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সোনিয়ার সানী-তিশা গ্যাস হাউজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাহেরপুর বাজারে অবস্থিত এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোনিয়া নিজেই দেখাশোনা করে। তার দুই ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার সুবাদে তাহেরপুরের বাইরে থাকেন।
সোনিয়া ও তার লিখিত অভিযোগের সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের এপ্রিলে এক মাসের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা ধার নেয় রামরামা গ্রামের পেয়াজ ব্যবসায়ী আকরাম ও তার ভাই আক্কাছ। সোনিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের পেয়াজের আড়ত রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পাওনা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে তারা দুই বারে ৪০ হাজার টাকা টাকা দেয়। বাকি এক লাখ ৮ হাজার টাকা তারা এখনো ফেরত দেয়নি। এ নিয়ে ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর তাহেরপুর বণিক সমিতিতে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সে বৈঠকে আকরাম ও আক্কাছ হাজির হননি। এরপর বণিক সমিতির ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনিয়া বাগমারা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর থেকে সোনিয়াকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়।
সোনিয়া বলেন, আকরাম ও তার লোকজন একাধিকবার বাড়িতে ও দোকানে গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তাকে পুড়িয়ে হত্যা করার জন্য রাতের অন্ধকারে তার বাড়িতে দুইবার আগুন দেয়া হয়েছিলো। এছাড়া দুইবার তার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ি থেকে তার সমস্ত মালামাল চুরি যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আকরাম ও তার ভাই আক্কাছের বিরুদ্ধে থানায় দুইটি মামলা করা হয়। কিন্তু বাগমারা থানা পুলিশ তদন্ত না করেই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর আকরাম ও তার লোকজনের হুমকি-ধামকি আরও বেড়ে যায়। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সোনিয়া আরো বলেন, বাগমারা থানা পুলিশের কোন সহযোগিতা না পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কাছে নিজের নিরাপত্তা ও ধারকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। ডিআইজি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। এরপর জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করে বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ দেয়নি বলে অভিযোগ করেন সোনিয়া।
বাগমারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবাইদা জানান, সোনিয়ার অভিযোগ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আকরামের বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
শাহরিয়ার অনতু/এসএস/পিআর