পদ্মার গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় ১৫ গ্রাম
রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। সম্প্রতি নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ১৫টি গ্রামসহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বছরের পর বছর এই ভাঙন অব্যাহত থাকলেও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো জোরালো উদ্যোগ। তবে এবারের শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এসব গ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে মনে করছেন পদ্মা পাড়ের হাজারো মানুষ।
বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গত কয়েক বছরে আলাতুলী উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম কোদালকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চরাঞ্চলের ১৫টি গ্রামের ৩ হাজারের বেশি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমি, কয়েক লাখ আম গাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজগাছ ভাঙনে নদী গর্ভে চলে গেছে।
এদিকে, নদীর ভাঙন থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে অবস্থান করছে চর বয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি। তার পাশেই রয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারিভাবে নির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র।
অপরদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলার হুনমন্তনগর, চর নওশেরা, আমতলা খাসমহল, কোদালকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিয়াড় মানিকচক মাদরাসা ও কোদালকাটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ, রাস্তা, লাখ লাখ গাছ ও শত শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন কর্তৃক ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে, উপজেলার আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চরবয়ারমারি, আমতলা খাসমহল, ডাকরিপাড়া, চর নওশেরা, হুনুমন্তনগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের লুটারিপাড়া, সরকারপাড়া, কাইয়াপাড়া, পশ্চিম কোদালকাটি, আলাতুলী, বগচর, রানীনগর ও ছয়রশিয়া গ্রাম। ২০০৪ সাল থেকে গোদাগাড়ী হুনুমন্তনগর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলাতুলী বগচর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানায়, পদ্মা নদীর এপারে মহাসড়কের পাশে ভাঙন রোধে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করার পর থেকেই চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোয়াজ আলী বলেন, নদীর ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলাতুলি ইউনিয়ন। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নতুন করে বসতি গড়লেও বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায় রয়েছেন।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। পশ্চিম কোদালকাটি ও আলাতুলী গ্রামের সামনে নদী ভাঙনের কারণে পদ্মা নদী ভারতের দিকে যাচ্ছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে চরাঞ্চলে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রতিবছর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের নদী পাড়ের মানুষ বসতভিটা হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খালিদ হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে নদী ভাঙনের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলেই নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শাহরিয়ার অনতু/এআরএ/পিআর