পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে এক শিক্ষকের উদ্যোগ


প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ২১ জুন ২০১৭

‘আসুন দেশকে এগিয়ে নিতে কিছু অবদান রাখি, গড়ে তুলি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করছেন আমিনুল ইসলাম তিতাস।

কয়েকদিন ধরেই তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছেন। তাকে দেখে কিছু মানুষ হাসলেও অনেকেই কাছে গিয়ে ফেস্টুনের লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন।

বুধবার বিকেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তায় সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেয়া তিতাসকে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানেই তিতাসের কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে।

আমিনুল ইসলাম তিতাস ঠাকুরগাঁওয়েরই সন্তান। তার বাসা শহরের আর্ট গ্যালারি এলাকায়। তিনি গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শৈশব কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরেই। ১৯৯০ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজে গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। স্ত্রী কলেজের শিক্ষক। স্ত্রী উচ্চশিক্ষার সুযোগে গিয়েছিলেন জাপানে। সেই সুবাদে আমিনুল ইসলাম তিতাসের জাপানে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। জাপানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখে তিনি তার মাতৃভূমির অপরিচ্ছন্নতা দূর করার অঙ্গীকার করেন মনে মনে।

Tkg

সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি একাই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে নেমেছেন রাস্তায়। আর তাকে দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেছে উৎসুক জনতা। কেউ হাসছেন। আবার কেউ বা আন্দোলনকে সমর্থন করে মৌন সম্মতি দিচ্ছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। ফলে প্রশংসা আর নিন্দায় চলছে ওই শিক্ষকের সামাজিক আন্দোলন। ইস্যু হলো পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই।

ঠাকুরগাঁও শহরের সমাজকর্মী সুবর্ণ জানান, নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা সবাই যদি শিক্ষক তিতাসের পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ি স্লোগানকে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বেশিদিন আর সময় লাগবে না।

আন্দোলনে নামা কলেজ শিক্ষক আমিনুল ইসলাম তিতাস জানান, ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা একটি খারাপ কাজ। কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী দ্বারা শহর পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আসুন, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি।

তিনি আরও জানান, সবার সহযোগিতা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় ডুয়েট হবে বাংলাদেশের প্রথম পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস।
শুধু ডুয়েট নয়, এভাবেই বাংলাদেশ হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ। আর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান তাই এ জেলা পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছি। আসুন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই সচেতন হই। গড়ে তুলি স্বাস্থ্যকর আর সুন্দর পৃথিবী।

রিপন/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।