থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মীদের সিঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২দক
প্রকাশিত: ০২:২৬ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কর্মীদের সিঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী/ ছবি: এআই দিয়ে বাননো

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি কর্মচারীদের লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। একই সঙ্গে বিদেশ সফর স্থগিত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জানিয়েছেন থাই সরকারের এক মুখপাত্র।

সরকারি মুখপাত্র লালিদা পেরিসউইওয়াতানা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে আজ থেকে সরকারি কর্মচারীরা বাসা থেকে কাজ করবেন। তবে যেসব কর্মকর্তাকে সরাসরি জনসেবা দিতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ থাইল্যান্ডের হাতে বর্তমানে প্রায় ৯৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আউত্তাপল রের্কপিবুন।

তবে একই সঙ্গে দ্রুত জ্বালানির চাহিদা কমানোর চেষ্টা চলছে। লালিদা বলেন, শক্তি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরে এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যুট-টাইয়ের মতো আনুষ্ঠানিক পোশাকের বদলে অর্ধহাতা শার্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৮ শতাংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পূরণ হয়। দেশটির এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত এলএনজির অর্ধেকের বেশি আসে থাইল্যান্ড উপসাগরে থাকা নিজস্ব উৎপাদন থেকে। আর প্রায় ৩৫ শতাংশ আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ১৩ শতাংশ আসে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে লাওস ও মিয়ানমার ছাড়া অন্য সব দেশে জ্বালানি রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় থাইল্যান্ড।

সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে প্রয়োজন ছাড়া বাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান লালিদা। একই সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হবে এবং কারপুলিংয়ের মতো শক্তি সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে।

সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বাধ্যতামূলক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে। এর মধ্যে দোকান, সিনেমা হল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন সাইনবোর্ডের আলো কমানো এবং রাত ১০টার পর গ্যাস স্টেশন বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।