না.গঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সেই জাহাজ সংরক্ষণের উদ্যোগ
চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী থেকে উদ্ধারকৃত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমভি একরাম নামের সেই জাহাজটি অবশেষে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের নির্দেশে রোববার বিকেলে জাহাজটি পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা নামধারী একটি চক্র ওই জাহাজটি কেটে বিক্রির চেষ্টার সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয়।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর গোলাবারুদ বহনকারী এমভি একরাম কার্গো জাহাজটি বীর মুক্তিযোদ্ধারা চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে ডুবিয়ে দেন। জাহাজটি ১৯৬৫ সালে নেদারল্যান্ডসে (হল্যান্ড) নির্মিত হয়। ১৯৬৫ সালের ১৯ মার্চ জাহাজটি রেজিস্ট্রেশন হয় এমভি একরাম নামে। ইউনাইটেড ট্রেডিং কর্পোরেশন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক অব পাকিস্তান জাহাজটির মালিক। স্বাধীনতার পর জাহাজটি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের অধীনে চলে আসে।
২০০৮ সালের মাঝামাঝিতে বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার মোক্তার হোসেন ডুবুরি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক থেকে নিলামে জাহাজাটি ক্রয় করেন। এরপর ওই বছরের ১৪ অক্টোবর ডাকাতিয়া নদী থেকে জাহাজটি উদ্ধার করে পরদিন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দায় শাহেন শাহ’র মালিকানাধীন ডকইয়ার্ডে এনে রাখা হয়। পরে এ জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠলে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জাহাজটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে জাহাজটি শাহেন শাহ’র ডকেই রক্ষিত থাকে।

গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী নূরে আলম ও জসিম নামে দুই ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমভি একরাম জাহাজটি কাটা শুরু করেন। এ ঘটনায় ডুবুরি মোক্তার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে নূরে আলম জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান জাহাজ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে নির্দেশের কাগজ চাইলে তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি বিধায় পুলিশ জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয়।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল লতিফ জানান, এমভি একরাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। এটা কাটা বা পরিবর্তন করা যাবে না। আর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো নির্দেশ বা ইচ্ছা নেই জাহাজ কাটার। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে যারা জাহাজ কাটার চেষ্টা করেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। তারা রাজাকার।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোখলেসুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নূরে আলম ও জসিম নামে দুজনকে জাহাজ কাটার কাজে পাওয়া যায়। তাদের কাছে কোনো প্রকার কাগজপত্র না পেয়ে জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমভি একরাম নামের সেই জাহাজটি কেটে বিক্রি করার চেষ্টার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টিগোচরে আসলে তিনি বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালককে খোঁজ-খবর নেয়ার নির্দেশ দেন।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক একে এম আরিফউদ্দিন বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রী আমাদের জাহাজটির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা রোববার সরেজমিনে জাহাজটি পরিদর্শন করেছি এবং মন্ত্রী মহোদয়কে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছি। জাহাজটি যেহেতু শিল্প মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাই এটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার জন্য মন্ত্রী মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র হাতে পেলে আমরা জাহাজটি নিজেদের সংরক্ষণে নিয়ে আসব।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম