মেয়রের বিরুদ্ধে টেন্ডারের নামে ধান্দাবাজির অভিযোগ


প্রকাশিত: ০২:২৫ পিএম, ০৩ জুলাই ২০১৭

নওগাঁ পৌরসভা মেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ নজমুল হক সনির বিরুদ্ধে টেন্ডারের নামে ধান্দাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

সিডিউল বিক্রি না করে ধান্দাবাজি করায় পৌরসভা লাইসেন্সধারী ঠিকাদাররা তাকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে কৌশলে মেয়র পৌরসভা থেকে সরে পড়েন। এতে ঠিকাদারদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উন্নয়ন সহায়তা থোক (এডিপি) তিনটি প্যাকেজ প্রকল্পের আওতায় গত ৮ জুন প্রায় ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে ৩টি কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৬ টাকা প্রস্তাবিত ব্যয়ে তিনটি রাস্তার সংস্কার কাজ, ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা প্রস্তাবিত ব্যয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা আলোকিত করার জন্য বৈদ্যুতিক দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ ও ৩ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকা ব্যয়ে নওগাঁ পৌরসভার একটি গার্বেজ ট্রাক মেরামত। সোমবার ছিল সিডিউল বিক্রি শেষ দিন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (০৪ জুলাই) মধ্যে শিডিউল জমা দিতে বলা হয়েছে। এজন্য পৌরসভা লাইসেন্সধারী প্রায় ৩০/৩৫ জন ঠিকাদার সকাল ১০টা থেকে পৌরসভা চত্বরে অপেক্ষা করছিল সিডিউল কেনার জন্য।

গত কয়েকদিন থেকে তাদের কাছে সিডিউল বিক্রি না করে ঘুরানো হচ্ছিল। আজ নয় কাল বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু মেয়র তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালায়।

তিনি কোনো সিডিউল বিক্রি না করে পৌরসভা থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত ঠিকাদাররা মেয়রকে অফিসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে কৌশলে মেয়র সটকে পড়েন।

তবে মেয়র পৌরসভা থেকে সটকে পড়ার পর প্রকৌশলী দফতরসহ কয়েকটি দফতরের কার্যক্রম বন্ধ করে তালাবদ্ধ করে চলে যায় সবাই। ফলে অফিস তালাবদ্ধ থাকায় সিডিউল বিক্রির শেষ দিনে বৈধ লাইসেন্সধারী ঠিকাদাররা কোনো সিডিউল কিনতে পারেননি। এতে ঠিকাদারদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা পৌরসভা চত্বরে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত কোনো সিডিউল বিক্রি হয়নি। মেয়র নিজেই সিন্ডিকেট করে চলেছেন। আর এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন। পৌরসভা থেকে যাদের কাজ দেয়া হয় তারা সবাই মেয়রের আত্মীয় স্বজন। আর মেয়র নিজেই ঠিকাদার হয়ে পৌরসভার কাজগুলো করে থাকেন।

কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, মেয়র টেন্ডারের নামে ধান্দাবাজি শুরু করেছে। তার পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে মেয়র তাদের কাছে সিডিউল বিক্রি করছেন না। মেয়র বলছেন আওয়ামী লীগের একজন কাজ নিয়ে আসছেন। তাকে কাজটি দেয়া হবে। কিন্তু মেয়র আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে কাজ করান না। আওয়ামী লীগের লোকজনদের নাম ভাঙিয়ে মেয়র তার পছন্দ মতো ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেন। কাজটি যখন মেয়র নিজেই করেন তখন তাকে প্রশ্ন করা হলে উল্টো তিনি বলেন ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ কিনে নিয়েছেন।

মেসার্স শাকিব ইলেকট্রনিক্স’র প্রো. শওকত হাসান দ্বীপু বলেন, গত আট বছর থেকে আমরা সাধারণরা কোনো সিডিউল কিনতে পারিনি। ফলে ট্রেন্ডারে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। শুধু পৌরসভার লাইসেন্স নবায়ন ও ভ্যাট দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। পৌরসভার প্রায় ৪০/৪৫ জন লাইসেন্সধারী ঠিকাদার আছে। টেন্ডারগুলো যায় কোথায়? কে খায়? কয়েক বছর থেকে ট্রেড লাইসেন্স দুই হাজার ও লাইসেন্স নবায়ন আড়াই হাজার টাকা করে দিয়ে আসছি।

মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্স নাদিম কুদ্দুস, ফরিদ অ্যান্ড সুলতান ট্রেডার্স প্রো. ফরিদ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম টিটুসহ কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, গত তিন দিন হলো সিডিউল বিক্রি শুরু হয়েছে। মেয়র তার পছন্দের কয়েক জনের কাছে সিডিউল বিক্রি করেছেন। কিন্তু সিডিউল বিক্রির শেষ দিন হলেও কোনো সিডিউল বিক্রি করা হয়নি। মেয়র কয়েকজন ঠিকাদার দিয়ে পৌরসভার সম্পন্ন কাজ করে নেন। এর বিনিময়ে মোটা অংকের কমিশন নেন তিনি। সিডিউল বিক্রির শেষ দিনে কোন অনুমতি না দিয়ে কৌশল করে ঢাকায় চলে যান। 

এ বিষয়ে কথা বলতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পৌরসভা মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আব্বাস আলী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।