সাধু সেকেন্দারের ভোজ আয়োজন
এলাকায় তিনি সাধু বাবা নামেই পরিচিত। সহজ সরল এ মানুষটির নেই কোনো লোভ লালসা। তিনি স্বল্পতেই তুষ্ট। মিষ্টভাষী পঞ্চাশঊর্ধ্ব এই মানুষটি হলেন সেকেন্দার আলী। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে তার বাড়ি।
এক সময় এলাকায় কলা ও ডিমের ব্যবসা করতেন তিনি। আর সেই সুবাদে গ্রামের এনায়েতপুর বাজারে একটি চা, পান বিড়ির দোকান দিয়েছেন। আয়ের উৎস বলতে ওই দোকানটিই তার একমাত্র সম্বল। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। স্ত্রী রোকেয়া বিবি গৃহিণী।

গত ১২ বছর আগে এলাকার বড় ভাই সামাদের সঙ্গে কুষ্টিয়ায় লালনের দেশে বেড়াতে যান। সেখানে সাইজি সালাউদ্দিনের কাছে বয়ান শুনে সাধু হন তিনি। এরপর গ্রামে এসে সাধুর ভ্যাস ধরেন। পরনে সাদা কাপড়ের লুঙ্গি ও গায়ে সাদা ফতুয়া। দোকান থেকে যে আয় হয় তা থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি বাকি টাকা ‘সাধুসংঘ’তে ব্যয় করেন।
সাধুসংঘ হচ্ছে লোকজনদের খাবার খাওয়ানো। দোকান থেকে যা লাভ আসে তা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় ২, ৩ ও ৪ মাস পর পর এলাকায় ভুরিভোজের আয়োজন করেন তিনি। আর সেখানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের দাওয়াত করে খাওয়ান তিনি। এখানেই যেন তার তৃপ্তি। আর কথায় কথায় মিষ্টি করে হাসি দেন। যেন সবাই তার আপনজন। নিজের দুঃখ বলতেও যেন কিছুই নেই। অন্যের দুঃখে দুখি। আবার অন্যের সুখই যেন তার সুখ।

সেকেন্দার আলী বলেন, আয়েশি বা বিলাসিতার জীবন আমার দরকার নেই। আর সাধুসংঘ করার জন্য আমাদের বিধান আছে। আমার এ ছোট দোকান থেকে যা আয় হয় তা থেকে নিজে খায় ও অন্যদের খাওয়ানোর চেষ্টা করি। আল্লাহর রহমতে দোকানের আয়ও ভালো হয়। আমি মানুষদের খাওয়ায়ে তৃপ্তি পাই। আবার তাদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিই যদি কোন ভুল ত্রুটি থাকে। আর ১২ বছর থেকে এ সাধুসংঘ করে আসছি। আমার স্ত্রীও সাধুর মুরিদ নিয়েছে।
স্থানীয় বয়জেষ্ঠ্য হামিদুর রহমান বলেন, মানুষটি খুব সহজ সরল প্রকৃতির। টাকা পয়সার প্রতি তার কোনো লোভ নেই। খেয়ে পরে যা থাকে তা মানুষদের দিয়ে দেন। আর সাধুসংঘ করে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রামের লোকদের খাবারের আয়োজন করেন।
এলাকার কুরবান আলী বলেন, সাধুবাবার কাছে দুই হাজার টাকা জমা হলেই মানুষকে খাওয়ানোর জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেন। আর সেই টাকা খরচ করেই তিনি তৃপ্তি পান।
আব্বাস আলী/এমএএস/পিআর