পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব বেনাপোলের যাত্রীদের উপর
বেসরকারি পরিবহন সংস্থা সোহাগ পরিবহনের চালকের নিঃশর্ত মুক্তি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এবং মধুখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত আছে। এদিকে বৃহস্পতিবার মাইকিং করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের আহ্বান করেছে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। আর এই ১৮টি রুটে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হলে এ অঞ্চলের গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে।
অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরা। তাদের অনেকেই দেশে ফিরে আটকে গেছেন বেনাপোল বন্দরে। কারো কাছে টাকা আছে, আবার কারো কাছে বাড়ি ফেরার টাকা ছাড়া অন্য কোনো টাকা নেই। তবুও যদি বন্দরে বসেই এই টাকা খরচ হয়ে যায় তাহলে বাড়ি ফেরাই দায় হয়ে পড়বে।
গত দুই দিনে বেনাপোল চেকপোস্টে কয়েকশ ভারত ফেরত যাত্রী আটকা পড়েছেন। এসব যাত্রীদের কাছে টাকা আছে তারা ইজি বাইক, ভ্যান, রিকশা নিয়ে যশোরে এসে তারপর ট্রেনে করে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশুদের। আর অন্যান্য যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জাগো নিউজকে জানান, পরিবহন ডাকাতি মামলায় মধুখালি থানার ওসি সোহাগ পরিবহনের চালক আইনালকে আটক করেন। শ্রমিক নেতারা বার বার বলার পরও মধুখালি থানার ওসি শ্রমিক নেতাদের কোনো কথায় আমলে নেননি। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। আর এই ধর্মঘটের কারণে হঠাৎ করেই ঢাকার সঙ্গে সকল পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হয়রানি আর ভোগান্তির কবলে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শ্রমিক সমিতির সভাপতি জানান, সোহাগ পরিবহনের চালক আইনালের মুক্তি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালি থানার ওসি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এই ধর্মঘট চলবে।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি আটক ড্রাইভার আইনালের জামিন না হয়, তাহলে শুক্রবার ভোর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮ রুটে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে। আর এই ১৮টি রুটে পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হলে এ অঞ্চলের গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে। তাই শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে আটক চালকের মুক্তি দাবি করেছেন।
মো. জামাল হোসেন/এমজেড/আরআইপি