বাবা-মাকে পিটিয়ে কলেজছাত্রীকে অপহরণ


প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ০৯ জুলাই ২০১৭

লক্ষ্মীপুরে বাবা-মাকে পিটিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অপহৃতের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে রোববার দুপুরে হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সকালে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

থানা পুলিশ ও অপহৃতার পরিবার জানায়, পৌরসভার আবিরনগর এলাকার মো. খোকনের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে একই এলাকার ওই কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর বিয়ের কথা চলছিল। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রীর মা-বাবা তাদের রান্নাঘরে খাবার খেতে যান। এসময় হেলাল ও তার ১০-১৫ সহযোগী রান্না ঘরের দরজায় বাহির থেকে তালা মেরে দেয়।

এক পর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীর মুখ বেঁধে দেশীয় অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। চিৎকার শুনে তারা রান্না ঘরের বেড়া ভেঙে বের হয়ে অপহরণকারীদের বাধা দেয়। এসময় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে তারা।

ওই ছাত্রীর বাবা আবুল কাশেম ও মা কুলসুম বেগমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপহৃত ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

অপহৃতের মা কুলসুম বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জোর করে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে। আমি তাকে সুস্থ অবস্থায় দ্রুত ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আবুল কাশেমের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার আহত স্ত্রীও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, অপহৃতের বাবা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় আটক ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপহৃতকে উদ্ধার ও মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।

কাজল কায়েস/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।