কক্সবাজারে বানভাসীদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা


প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ০৯ জুলাই ২০১৭

ঘূর্ণিঝড়ের মতোই লণ্ড ভণ্ড করে দিয়েছে পাহাড়ি ঢলের প্লাবন। ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও উপ-সড়ক। প্লাবিত করেছে হাজার হাজার বসতঘর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পানিবন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে কয়েক লাখ মানুষকে। টানা ৫ দিন এ পরিস্থিতির পর শুক্রবার থেকে ভারী বর্ষণ থেমে গেছে। ফলে নেমে গেছে ঢলের পানিও। এরপরই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে ক্ষত চিহ্নগুলো। ফলে পানিবন্দির মতোই যোগাযোগ বন্দি হয়ে পড়েছে প্লাবিত লোকজন।

সরকারের তরফ থেকে এ পরিস্থিতি উন্নয়নে তৎক্ষণাৎ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই নিজেদের প্রচেষ্টায় সড়কের ভাঙা অংশে কাঠের সাঁকো কিংবা বিকল্প সেতু তৈরি করে যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন দুর্গত মানুষ।

কক্সবাজার সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান (১) ওসমান সরোয়ার ডিপো বলেন, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ঢলের ভাঙনে প্লাবিত জালালাবাদের লোকজন। ত্রাণ ও সরকারি সহযোগিতার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই নিজেদের দুর্ভোগ লাঘবে তৎপর হয়ে উঠেছেন তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি বানভাসী মানুষগুলোর মনে সাহস সঞ্চয় করিয়েছে। এতে করে ঈদগাঁও-জালালাবাদ সড়কের ভাঙন এলাকায় একটি কাঠের সাঁকো ইতোমধ্যে দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে।

ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম বলেন, ভারী বর্ষণের তোড়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোমবার জালালাবাদ রাবার ড্যামের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। পানির ধাক্কায় ঈদগাঁও-জালালাবাদ সড়কের লরাবাক ব্রিজ সংলগ্ন ও হাফেজখানা এলাকার বিশাল অংশ ভেঙে যায়। এতে ঈদগাঁও, জালালাবাদ, চৌফলদণ্ডী, পোকখালীসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকা প্লাবনের শিকার হয়। আশা করছি স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা এক হলে আগামী সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ভাঙা সড়ক ও বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হবে। ত্রাণের পাশাপাশি ভাঙা বাঁধ ও সড়ক মেরামতে সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এদিকে, বৃষ্টি থামার পর জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসেন।

ভাঙন পরিদর্শনকালে তা পুনঃনির্মাণ করে জনচলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন। তার নির্দেশ ও নিজেদের প্রয়োজনে সাঁকো দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা।

সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমল ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজনীন সরোয়ার কাবেরী, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন তানিমসহ অনেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে দুর্গত এলাকায়।

অন্যদিকে, চকরিয়ার ভাঙনের কবলে পড়া ক্ষত এলাকাতে নিজেরা সাঁকো তৈরি করে চলাচল স্বাভাবিক করেছে স্থানীয়রা। এখানকার দুর্গতদের মাঝে রান্নাকরা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম এমএ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ। তারা বিপন্নদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহস যোগাচ্ছে। যে যারমতো করেই ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানান চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কছির উদ্দিন কচির।

তড়িৎ সরকারি সহযোগিতা পেলে দুর্গত মানুষগুলো আরও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে, উপকূলীয় পোকখালীর গোমাতলীতে এখনও জোয়ার-ভাটা চলছে। সমুদ্র তীরের বেড়িবাঁধের ভাঙন মেরামত সম্ভব না হওয়ায় সকাল বিকেল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে শত শত পরিবার। বিগত দেড় বছর ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর শত চেষ্টা করেও প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কুলিয়ে উঠছে না বলে জানিয়েছেন পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ।

জোয়ার-ভাটা কবলিত উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব তিন গোমাতলীর ৮ গ্রামের অসংখ্য শ্রমজীবী নিজেদের পেশা পরিবর্তন করে এলাকা ছেড়ে শহরমুখী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপির গোমাতলী এলাকার সদস্য আলাউদ্দিন জনি ও মোহাম্মদুল হক দুখুমিয়া।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, দুর্গত এলাকায় লোকজনের স্বাভাবিক জীবন ফেরাতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এলাকার নিজ নিজ অংশ নিয়ে দ্রুত কাজ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন মহলেও। তবে, এলাকার লোকজন যেভাবে নিজেদের কাজে এগিয়ে এসেছেন তা অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হবে।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।