সুন্দরবনে জাহাজডুবির ২২ দিন পর উদ্ধার কাজ শুরু


প্রকাশিত: ০২:৫৮ এএম, ২৩ মে ২০১৫

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর বিমলের চর এলাকায় ডুবে যাওয়া সারবোঝাই এম ভি জাবালে নূর লাইটারেজ জাহাজটি গত ১ মে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার ২২ দিন পর আজ শনিবার সকালে জাহাজটির উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন করতে ঢাকা থেকে রূপসী বাংলা এবং বরিশাল থেকে ওয়েস্টার্ন নামের দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ শুক্রবার বিকেলে ভোলা নদীতে এসে পৌঁছায়।

এর আগে শরনখোলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের অভ্যন্তরে থাকা গলিত পটাশ সার বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়। এ অবস্থার পর বেশ কিছুদিন ধরে উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ ছিল।

কার্গো এমভি জাবালে নূরের মালিক মো. আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ডুবে থাকা জাহাজটি চ্যানেল থেকে অন্যত্র সরিতে নিতে রূপসী বাংলা ও ওয়েস্টার্ন নামের দুটি জাহাজ ভাড়া করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নিয়োগ করা হয়েছে ডুবুরি দল। তবে জাহাজটিতে পলি ঢুকে পড়ায় জাহাজ টেনে অন্যত্র সরানো কষ্টকর হবে। শনিবার সকাল থেকে আমরা এ উদ্ধার কাজ শুরু করেছি। এখন যত কম সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা যায় তার চেষ্টা চলছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের এসিএফ মো. কামাল উদ্দিন শনিবার সকাল পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদককে জানান, সুন্দরবনের ভোলা নদীর বিমলের চরে ডুবে যাওয়া পটাশ সার বোঝাই কার্গো উদ্ধারের জন্য মালিকপক্ষ দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি এনে উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। প্রথমে জাহাজের অভ্যন্তরে থাকা বালু অপসারণের কাজ করছেন ডুবুরি দল। পরে উদ্ধারকারী দুটি জাহাজ ডুবে থাকা জাহাজাদের দু`পাশে লাগিয়ে ওই কার্গো জাহাজটিকে ভাসিয়ে অন্যত্র টেনে নিয়ে যাবার কাজ করবে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ডুবে থাকা জাহাজ নিরাপদ স্থানে টেনে নিতে ২/৩ দিন সময় লাগতে পারে। জাহাজটি উদ্ধারের জন্য এখন মালিকপক্ষ যাবতীয় কাজ করছেন এবং বন বিভাগের কর্মীরা বিষয়টি তদারকি করছেন মাত্র।

দুর্ঘটনা কবলিত লাইটারেজ জাহাজটি মংলা বন্দরের অদূরে পশুর নদীর হারবারিয়া এলাকা থেকে ৬শ ৭০ মেট্রিকটন পটাশ সার বোঝাই করে গত পহেলা মে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরনখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর বিমলের চরে ৪ মে সন্ধ্যায় আটকা পড়ে। পরের দিন ৫ মে বিকেলে জাহাজটির তলা ফেটে পটাশ সার সুন্দরবনের ভোলা নদীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে কার্গোটি কাত হয়ে এর একটি অংশ ডুবে যায়।

গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলাধীন চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মৃগমারী এলাকায় এমটি টোটাল নামে একটি জাহাজের ধাক্কায় ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে তেলবাহী জাহাজটির তলা ফেটে ডুবে যায়। ২৮ দিন বন্ধ থাকার পর ৭ জানুয়ারি থেকে সরকার নিয়ন্ত্রিত উপায়ে শুধুমাত্র দিনের আলোয় শ্যালা নদী পথে আবারও নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়। তেলবাহী জাহাজডুবির ৫ মাস যেতে না যেতেই গত  ৫ মে মঙ্গলবার পটাশ সার বোঝাই কার্গো এমভি জাবালে নূরের তলা ফেটে সুন্দরবনের ভোলা নদীতে ডুবে যায়।  

শওকত আলী বাবু/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।