আমেনার সার্বিক সহযোগিতার কথা দিলেন জাকির

মাহাবুর আলম সোহাগ
মাহাবুর আলম সোহাগ মাহাবুর আলম সোহাগ , সহকারী বার্তা সম্পাদক (কান্ট্রি ইনচার্জ)
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৭

ফেনীতে গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের শিশু আমেনাকে সার্বিক সহযোগিতা করতে পাশে থাকার কথা দিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেইন।

একই সঙ্গে তিনি ফেনীর সব বিত্তবান, বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শিশু আমেনার চিকিৎসা এবং এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে নির্যাতিত শিশু আমেনাকে নিজের ভাগ্নির সঙ্গে তুলনা করে কবি রফিকুল ইসলাম রফিকের অসহায় মানবতা কবিতার একটি লাইন তুলে ধরে পোস্ট দেন ছাত্রলীগের এই মানবসেবী নেতা।

পাঠকের জন্য হুবহু ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেইনের লেখাটি তুলে ধরা হলো :

"তাহলে ক্যানোরে আজ এ’হৃদয় নিঃস্ব অসহায় মানবতা হতবাক বিশ্ব।"

আজ হঠাৎ যখন নিউজ ফিডে এই ছোট মেয়েটার শরীর ঝলসানো ছবিসহ রিপোর্টটা দেখে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। চোখের মধ্যে আমার বড়বোনের মেয়ের ছবিটা ভেসে উঠলো। আমার ভাগ্নির সঙ্গে এই মেয়েটার বয়সের খুব একটা পার্থক্য হবে না মনে হয়, তবুও পেটের দায়ে বাবা-মা আদরের মেয়েটাকে মানুষের বাসায় একটু উন্নত জীবন-যাপনের জন্য কাজে পাঠায়। এই এতটুকু মেয়ের কাজ করতে গিয়ে ভুল তো হতেই পারে, আর তার শাস্তি কি এইভাবে মেয়েটার শরীরটাকে পুড়িয়ে দেওয়া? এই বয়সের একটা মেয়েই বা কতটুকু ভুল-ত্রুটি বোঝার কথা? মহিলা হয়ে কিভাবে অবুঝ একটা শিশুর উপর এতটা অমানবিক হতে পারে মানুষ? মেয়েটার সার্বিক খবর নেয়ার চেষ্টা করি। খবর নিয়ে জানতে পারলাম ফেনী জেলার এক গৃহকর্তী দ্বারা এই মেয়েটার আজ এই করুণ দশা।

Afroja

আমি ফেনী জেলার সকল বিত্তবান, বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিশেষ করে ফেনী জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে এ অবুঝ মেয়ের চিকিৎসাসহ অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সকল পদক্ষেপে পাশে থেকে সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছি। মেয়েটির সার্বিক সহযোগিতায় আমরা পাশে থাকার কথা দিলাম।

এদিকে দুপুর ১২টার পর শিশু আমেনাকে নির্যাতনকারী গৃহকর্ত্রী আফরোজাকে গ্রেফতার করেছে ফেনী মডেল থানার পুলিশ। সদর উপজেলার ধলিয়ার কাছে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুনি নামের এক নারীর মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুর দিকে ফেনী শহরের নুরিয়া মসজিদ সংলগ্ন আফরোজা ম্যানশনে কাজ নেয় আমেনা বেগম (১০)। 

কিছুদিন পর সেখান থেকে আমেনাকে ঢাকায় তার ননদের বাসায় পাঠিয়ে দেন আফরোজা। সেখানে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন আমেনা। 

একপর্যায়ে তাকে চুলার আগুন নিয়ে তার শরীরের পেছনের অংশ ঝলসে দেয়া হয়। অসুস্থ আমেনাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করিয়ে ক্ষত কিছুটা সেরে গেলে পুনরায় তাকে ফেনীর আফরোজা ম্যানশনে পাঠিয়ে দেয় ওই গৃহকর্ত্রী। বিষয়টি জানতে পেরে আফরোজা আক্তার কয়েকদিন আমেনাকে বাসায় রাখলেও শনিবার মধ্যরাতে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। 

সারারাত ফেনী রেলওয়ে স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ঘুরে শহরের তাকিয়া রোড় এলাকায় কাঁদতে দেখে স্থানীয় মিজানুর রহমান তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসায় নিয়ে যান। 

পরে তার অবস্থা দেখে আধুনিক ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে সোমবার বিকেলে শিশু আমেনার ফুফু টুনি বাদী হয়ে মামলা করেন ফেনী মডেল থানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজাকে গ্রেফতার করা হয়।

এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।