ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র : পিছিয়ে পড়া জনগণের অনন্য মাধ্যম


প্রকাশিত: ০৭:৪০ এএম, ২৩ মে ২০১৫

জয়পুরহাটের ৫ টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া জনমানুষের কাছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র এক অনন্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তথ্য ও সেবাকেন্দ্রগুলো থেকে গ্রামীণ জনগণ বিভিন্ন জনসচেনতামূলক বিষয়ে জানতে পারছেন, হতে পারছেন সচেতন। ২১ শতকের ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জয়পুরহাটের লাখ লাখ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ এখন সদরে আসা যাওয়ার সময় বাঁচিয়ে কম খরচে ও কম সময়ে নিজেদের নাগালেই পেতে পারছে তথ্যসেবা।

এসব কেন্দ্র থেকে জনগণ জমির জরুরি কাগজ যেমন- নক্সা, দলিল,পর্চা তুলছেন। প্রয়োজনে নিজেদের ছবিও তুলতে পারছেন। পারছেন প্রয়োজনীয় ছবি ও কাগজপত্র স্ক্যান করতে, কম্পোজ করতে ও প্রিন্ট আউট করতে। এরপরও গ্রামীণ মানুষ আধুনিকতার ছোঁয়ায় কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্কাইপি পদ্ধতিতে বিদেশে থাকা তাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারছেন।

একটা সময় যা ছিলো স্বপ্নের মতো তা হাতের নাগালে ধরা দিয়ে তাদের অনেক-অনেক দূরের আপন মানুষের সাথে কথা বলিয়ে দিচ্ছে এ তথ্যসেবা। জন-সচেতনতামূলক ও জাতীয় দিবসগুলোর গুরুত্ব ও তাৎপর্যও এসব মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের বদলৌতে জীবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে তাদের কাছে।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইসিটি শাখার আইসিটি সহকারী হুমায়ুন কবীর জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি সেবা ও তথ্যকেন্দ্রে রয়েছে ১ টি ল্যাপটপ সহ ২ টি কম্পিউটার, ১ টি ইন্টারনেট মডেম, ১ টি ওয়েবক্যাম ক্যামেরা, ১ টি স্ক্যানার, একটি ফটোকপি মেশিন। জেলার ৩২ টি ইউনিয়নের তথ্য ও সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ৬৪ জন বেকার নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা। সরকারি কোনো বেতন ও ভাতা না পেলেও এসব সেবা দান থেকে তাদের যা আয় হচ্ছে তাতে তারা স্বচ্ছলতায় জীবনযাপন করতে পারছেন।

তিনি আরো জানান, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার ৩২টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৫ শত গ্রাহককে সেবা দিয়ে ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা আয় করেছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মাদবাদ ইউনিয়নের তথ্য ও সেবাকেন্দ্র থেকে কেশবপুর গ্রামের নিশিকান্তের ছেলে উৎপল বাবু নিজেদের জমির পুরাতন পর্চা, মাংনিপাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মোমিন জমির পুরাতন দলিল তুলতে পেরে আনন্দিত। তারা জানায়, পর্চা ও দলিল তুলতে সদরে গেলে তাদের কম করে হলেও ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হতো। কিন্তু এখান থেকে খুব স্বল্প মূল্যে গ্রামে বসেই সহজেই সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার তথ্য ও সেবাকেন্দ্রগুলোর বর্তমান সেবার পরিধি জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের (আইসিটি ও গোপনীয়) শাখার সহকারী কমিশনার এসবি আতিক জানান, বাংলাদেশের অনুন্নত জেলার মধ্যে জয়পুরহাট একটি। এ জেলার সাধারণ মানুষ আগে যেখানে ই-মেইলের সুফলই জানতো না সেখানে বর্তমান সময়ে তাদের বাড়ির পাশেই ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রগুলো তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছে। এসব কেন্দ্র এখন তাদের ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিসর আরো বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।