সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘গণধর্ষণ’
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক বখাটের প্রেমে সাড়া না দেয়ায় স্কুলছাত্রী এক কিশোরীকে (১৩) অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সেই সঙ্গে ওই ছাত্রীকে একটি ঘরে আটক রেখে তার শরীরে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১২ জুলাই) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে বৃহস্পতিবার স্কুলছাত্রীর অভিভাবক বখাটদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ ও নির্যাতিত কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রী এক বছর আগে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ষাড়পাড়া এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করত।
স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আড়াইহাজার উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় সুজন নামে এক বখাটে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে বখাটে সুজন মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।
এতে সে রাজি না হওয়ায় নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরী তার এক বান্ধবীর সঙ্গে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বিউটি পার্লারে যায়।
সেখান থেকে স্কুলছাত্রী কিশোরী একা নানার বাড়ি ফেরার পথে একটি প্রাইভেটকারযোগে বখাটে সুজনসহ চার-পাঁচ যুবক কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় একটি ঘরে আটকে রেখে তার শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সুজন ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। বুধবার রাতে সাড়ে ১১টার দিকে সুজন গংরা কিশোরীকে উপজেলার আব্দুল্যাহপুর ব্রিজের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কিশোরী একেক সময় একক ধরনের বক্তব্য দেয়ায় এ বিষয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হচ্ছে। কিশোরীর বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে মামলা নেয়া হবে এবং আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি