জয়পুরহাটের কচুর লতি যাচ্ছে বিদেশে


প্রকাশিত: ০৬:২৫ এএম, ২৬ মে ২০১৫

জয়পুরহাটের কচুর লতি এখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রায় ১৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে। ফলে এই অর্থকরী ফসল থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ভালো অবদান রাখছে। এ সবজি চাষে স্বল্প সময়ে কচুর লতি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন জয়পুরহাটের কৃষকরাও।  

আরো ইতিবাচক খবর হলো, কীটনাশককে বাদ দিয়ে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত কচুর লতি চাষ করায় দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে।

জয়পুরহাট জেলায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পানি কচুর লতি আবাদ হয়েছে। যা গত অর্থ বছর হতে ৭৫ হেক্টর বেশি। পাঁচবিবি উপজেলাতেই ১১শ হেক্টর জমিতে চাষিরা এই লতির আবাদ করেছেন। এ বছর কচুর লতির উৎপাদন হয়েছে ৪১ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন। পাঁচবিবিতেই এই লতি উৎপাদিত হয়েছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ওই উপজেলায় শুধুমাত্র বালিঘাটা ইউনিয়নের পাটাবুকা মৌজায় ২ শতাধিক কৃষক ৪০ হেক্টরের বেশি জমিতে কচুর লতি আবাদ করেছেন।
 
পাঁচবিবির পাটাবুকা মৌজার সফল কচুর লতি আবাদি চাষি মো. আফজাল হোসেন (৪৫) জাগো নিউজকে জানান, তিনি এলাকার কচুর লতি চাষি। প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে কচুর লতির আবাদ করছেন। তাকে অনুকরণ করে ওই মৌজার প্রায় ২ শতাধিক চাষি ১০/১২ বৎসর ধরে কচুর লতির আবাদ করছেন। এই আবাদ সকলেরই ভাগ্য ফিরিয়েছে।

চাষি আফজাল আরো জানান, চলতি বছরে তার ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ২০ মেট্রিকটন কচুর লতি উৎপাদিত হয়েছে। এতে করে খরচ ৪০ হাজার টাকা বাদে তার নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

বগুড়া অঞ্চলের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জুলফিকার হায়দার প্রধান জাগো নিউজকে জানান, বর্তমানে জয়পুরহাটে বাড়ি-২ জাতের পানিকচুর আবাদ হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তারা পানি কচুর আরো উন্নত কয়েকটি জাতের উদ্ভাবন করেছেন। এখানকার মাটির উপযুক্ততাসহ বিভিন্ন প্রকার উপযোগীতা যাচাই বাছাই পর এসব জাত আগামী বছর চাষিদের মাঝে অবমুক্ত করা হবে। এতে করে চাষিরা আরো বেশি  উপকৃত হয়ে আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

জয়পুরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ.জেড.এম সাব্বির ইবনে জাহান জাগো নিউজকে জানান, রফতানিযোগ্য কচুর লতি চাষে কৃষকদের আমরা সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছি এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কচুর লতির জন্য রফতানি প্রক্রিয়া জোন করার একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কচুর লতির জন্য রফতানি প্রক্রিয়া জোন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এখনকার উৎপাদিত কচুর লতি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়া সরকারের নেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা। এছাড়া এখানে নেই লতি বিক্রির স্থায়ী কোনো হাট-বাজার। অস্থায়ী একটি বাজার গড়ে উঠলেও তা পাইকারদের হাতে জিম্মি থাকায় কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য মূল্য থেকে।
 
এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।