ফতুল্লায় মালিকপক্ষের নির্যাতনে নারী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ


প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ২৬ মে ২০১৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের নির্যাতনে মর্জিনা বেগম (৪২) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লার লামাপাড়া-নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত আইএফএস টেক্স ওয়ার পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মর্জিনা বেগম দিনাজপুর জেলার পারবর্তীপুর থানার মন্মথপুর সর্দারপাড়া গ্রামের রাজা সর্দারের স্ত্রী।

এদিকে মালিকপক্ষ বলছে ডায়রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মালিক পক্ষ আর শ্রমিকদের মধ্যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হওয়াতে গামের্ন্টসে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নিহতের মরদেহ নিয়ে শ্রমিকরা পোশাক কারখানার সামনে এসে বিক্ষোভ করে। পরে মালিকপক্ষ কারখানা ছুটি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পোশাক কারখানার এমডি শামীম আহমেদ জানান, মর্জিনা আমাদের কারখানায় ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর থেকে কাজ করছে। সোমবার সে অসুস্থ হলে মঙ্গলবার কারখানায় আসেনি। সকালে আমি খবর পেয়েছি মর্জিনা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে সকালে ১০টায় মর্জিনার মরদেহ নিয়ে কিছু শ্রমিক কারখানায় এসে বিক্ষোভের চেষ্টা করে। এতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে নিহতের স্বামী রাজাকে দাফনের খরচ দিলে সে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার নাজমুল হোসেন বিপুল জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মর্জিনা নামে একজন নারীকে কয়েকজন লোক মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর আমি মৃত ঘোষণা করায় তারা মরদেহ নিয়ে চলে যায়। তবে মরদেহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হতে পারে।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের বরাত দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের জেলা শাখার সভাপতি এম এ শাহীন জানান, মর্জিনা সোমবার অসুস্থ হলে ফ্লোর ইনচার্জ মাসুমের কাছে ছুটি চায়। এতে মাসুম তাকে ছুটি না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন পরের দিন না আসলে ১০দিনের বেতন কেটে রাখা হবে। এর পরদিন মঙ্গলবার অসুস্থ শরীর নিয়ে মর্জিনা ডিউটিতে আসে। সকাল ১০টায় ফ্লোর ইনচার্জকে বলেন, স্যার আমি দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারছিনা। একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিলে ভালো হয়। এতে ফ্লোর ইনচার্জ ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালায়। তখন কারখানার ওই ফ্লোরেই মর্জিনার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো.শাহাদাৎ হোসেন/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।