এখন বালিশে মাথা রাখতে পারবে আলিমুন

মাহাবুর আলম সোহাগ
মাহাবুর আলম সোহাগ মাহাবুর আলম সোহাগ , সহকারী বার্তা সম্পাদক (কান্ট্রি ইনচার্জ)
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ১০ আগস্ট ২০১৭

অপারেশনের পর মাথার আকৃতি স্বাভাবিক হয়েছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নয় বছর বয়সী শিশু আলিমুন শেখের। সে এখন বালিশে মাথা রেখে ঘুমাতে পারবে।

আলিমুনের মাথার চারপাশে সাতটি বড় আকৃতির টিউমার ছিল। গত ২ আগস্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। আগামী রোববার তার মাথার সেলাই কাটা হবে।

ইতোমধ্যে তার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর রিপোর্ট আগামী শনিবার দেবে বলে জানিয়েছেন আলিমুনের মা ছকিনা বেগম। তবে সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে আলিমুনের মাথার টিউমারের অপারেশন হলেও তার কান, পিঠ ও হাঁটুর টিউমারগুলোর অপারেশন এখনও হয়নি। পর্যায়ক্রমে এসব অপারেশন হবে বলে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স সূত্রে জানা গেছে।

alimun

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নন পেইং ওয়ার্ডের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করছে আলিমুন। এই প্রতিবেদককে দেখে তার মা তাকে বেডে নিয়ে আসেন।

এ সময় কথা হয় আলিমুনের সঙ্গে। মাথার কাটা জায়গাগুলোতে ব্যথা আছে কি না- জানতে চায়লে সে জানায়, ব্যথা নাই।

আলিমুন আরও জানিয়েছে, বড় হলে সে শিক্ষক হবে।

আলিমুনের মা ছকিনা বেগম জাগো নিউজকে জানান, মাথায় টিউমার হওয়ার কারণে বালিশে মাথা রাখতে পারত না সে। খুব নাকি ব্যথা করত। আল্লহর রহমতে এখন সে সুস্থ। এখন আর ব্যথা নাই।

তিনি আরও জানান, কবে রিলিজ দেবে জানি না। চিকিৎসা তো চলছেই।

alimun

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আলিমুনের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা হাসপাতাল থেকেই করা হচ্ছে। সবাই খুব ভালো। এছাড়া তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিলেরও প্রশংসা করেন।

তিনি জানান, হাসপাতালে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন শাকিল ভাই। বাগেরহাটে সহযোগিতা করেছিল মনির ভাই (বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি)।

এ ব্যাপারে কথা হয় আলিমুনের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্বে থাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের ছাত্রলীগ সভাপতি শাকিলের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, আলিমুনের দুটি টেস্ট পাবার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দেবে কবে তার রিলিজ হবে এবং পিঠ ও হাঁটুর অপারেশন হবে। আলিমুনের চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খুবই আন্তরিক। তারাও চেষ্টা করছেন তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে।

alimun

প্রসঙ্গত, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সোনারকান্দি ইউনিয়নের মৃত সিদ্দিক শেখের নয় বছর বয়সী ছেলে আলিমুন শেখ দীর্ঘদিন ধরে বিনা চিকিৎসায় মাথায় টিউমার নিয়ে জীবনযাপন করছিল। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় হোমিও চিকিৎসা করালেও কোনো লাভ হয়নি।

দেড় বছর বয়সে আলিমুনের বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন তার মা ছকিনা বেগম। দিনমজুরি করে সংসার চালাতে এক সময় তিনিও হিমশিম খেয়ে আরেকটি বিয়ে করেন।

মায়ের বিয়ের পর আলিমুন ও তার বড় ভাই আরও অসহায় হয়ে পড়ে। ঠাঁই হয় দিনমজুর চাচার বাড়িতে। সেখানেই অভাব-অনটনে বড় হতে থাকে আলিমুন। একপর্যায়ে তার ওপর সুদৃষ্টি পড়ে এলাকার পল্লী চিকিৎসক জাহিদের।

সম্প্রতি আলিমুনের অসহায়ত্ব ও অসুস্থতা নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হলে দৃষ্টি পড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের। এরপর তিনিই আলিমুনের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন এবং গত ১ আগস্ট তাকে দেখতে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতাও করেন।

এমএএস/এএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।