আজও কেঁদে ওঠেন ইয়াসমিনের মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৪:১৪ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৭

আজ সেই ২৪ আগস্ট। ১৯৯৫ সালের এই দিনে কতিপয় বিপথগামী পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন কিশোরী ইয়াসমিন। প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় সাতজন সাধারণ মানুষ। বিচারে দোষী তিন পুলিশের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ইয়াসমিন ট্রাজেডির আজ ২২তম বার্ষিকী।

মাকে দেখতে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাড়ী ফিরছিলেন কিশোরী ইয়াসমিন। কিন্তু দিনাজপুরের বাসে না ওঠতে পেরে পঞ্চগড়গামী একটি বাসে ওঠেন তিনি। পরে দশমাইল নামক স্থানে নামিয়ে দিয়ে সেখানকার একটি চায়ের দোকানে জিম্মায় দেন বাসের লোকজন। ওই চায়ের দোকান থেকে ইয়াসমিনকে দিনাজপুরে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায় কতিপয় পুলিশ সদস্য। কিন্তু পুলিশ ভ্যানের ভেতরেই কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় প্রথমে প্রতিবাদ ও পরে তা আন্দোলনে রূপ নেয়। পুলিশের ওই বর্বোরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে শান্ত দিনাজপুর হয়ে ওঠে অশান্ত। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দিনাজপুর। বিক্ষুব্ধ জনতাকে দমাতে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। শহীদ হন সামু, সিরাজ, কাদেরসহ ৭ জন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় অনেকে। পরে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট আদালত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসির আদেশ দেন এবং ২০০৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তাদের ফাঁসির কার্যকর করা হয়।

ওই ঘটনার পর থেকে সারাদেশে ২৪ আগস্ট ‘জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতি বছর দিনাজপুরে সর্বদলীয়ভাবে দিবসটিকে পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবারও বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে, ঘটনার ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও একমাত্র মেয়েকে হারানোর বেদনায় এখনও কেঁদে ওঠেন মা শরিফা বেগম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, দিবসটি আসলে আরও বেশি মনে পড়ে। আর যেন কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।

মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সে দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন শ্রমিক নেতা হারেস আলী। তিনি জানান, ইয়াসমিনকে সে দিন পুলিশ জোরপূর্বক ভ্যানে তুলে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। পরে প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলনে নামেন।

সেই আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল মহিলা পরিষদ। দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সভানেত্রী কানিজ রহমান জানান, এখনও অনেক নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। আইনের গতিতে বিচার না চলা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ার ফলে এসব হচ্ছে। এ জন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকলে মিলে কাজ করতে হবে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোারঞ্জন শীল গোপাল বলেন, ইয়াসমিনের ঘটনার পর যে আন্দোলন হয়েছিল তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু এখনও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ জন্য আইনের দুর্বলতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা প্রয়োজন। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

এমদাদুল হক মিলন/আরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।