গরম ভাতের জন্য কাঁদে ছোট্ট মেহেরাব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাটের উমিদপুর মৎস্যপল্লীর ছোট্ট শিশু মেহেরাব আব্দুল্লাহ। অন্য শিশুদের মতো তারও আছে রঙ-বেরঙের স্বপ্ন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই স্বপ্ন যেন প্রতিদিনই থমকে যায়।

দুই মাস আগে একটি দুর্ঘটনায় মেহেরাবের হাত ভেঙে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এখনো তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের অবরোধ। ফলে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তার দাদা জেলে হাবিবুর রহমানের আয়ের পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

মেহেরাবের দাদা হাবিবুর রহমান নদীতে মাছ ধরেই সংসার চালাতেন। প্রতিদিনের আয়েই চলতো পরিবারের খরচ কিন্তু এখন অবরোধে সেই আয়ের পথ বন্ধ থাকায় পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

গরম ভাতের জন্য কাঁদে ছোট্ট মেহেরাব

রমজান মাসে যখন অনেক বাড়িতে ইফতার ও খাবারের আয়োজন থাকে, তখন মেহেরাবের পরিবারে দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক দিন ধরে দু’দিন আগের পান্তা ভাত খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। ছোট্ট মেহেরাব কখনো কখনো গরম ভাত খেতে চাইলে অসহায় হয়ে পড়ে তার পরিবার।

উমিদপুর মৎস্যপল্লিতে হাবিবুর রহমানের মতো আরও অনেক জেলে পরিবার একই সংকটে দিন পার করছে। মাছের প্রজনন রক্ষায় এই অবরোধ জরুরি, এ কথা জেলেরা মানলেও এই সময়টাতে তাদের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কঠিন।

মেহরাবের দাদা হাবিবুর রহমান বলেন, নদীতে মাছ ধরতে পারলেই সংসার চলতো। এখন অবরোধের কারণে কোনো আয় নেই। সরকারি সহায়তার কথা থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা পাইনি। প্রতি বছরের থেকে এ বছরের অবরোধ ভিন্ন। এ বছর অবরোধের সঙ্গে আছে রমজান। অবরোধে কোনো ইনকাম নেই, তার উপর রমজানে অনেক কষ্টে আছি পরিবার নিয়ে।

গরম ভাতের জন্য কাঁদে ছোট্ট মেহেরাব

মেহরাবের দাদি বলেন, রমজানে ইফতার করতে পারি না, শুধুমাত্র চিড়া ভিজিয়ে খাই। মানুষ কত রকমের খাবার খায়। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না। নাতিটা অসুস্থ, মাঝেমধ্যে গরম ভাত খেতে চায়। কিন্তু দিতে পারি না। গরম ভাত থাকলে তো দিব, একদিন রান্না করলে তিন দিন খাই। সরকার থেকে এখনো কোনো চাল বা সহযোগিতা পাইনি।

ছোট্ট মেহেরাব জানায়, নদীতে গোসল করতে গিয়ে আমার হাত ভেঙে যায়। মাঝেমধ্যে হাতে ব্যথা করে। ভালো ওষুধ খেতে পারি না। কারণ আমার দাদার কাছে টাকা নেই।

জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, একে অবরোধ, তার ওপর রমজান। আমরা অনেক কষ্টে আছি। নতুন সরকার আসছে, জানি না কী সহযোগিতা করবে। আমাদের ঘরে চাল নেই, ছেলে মেয়ে না খেয়ে থাকে। সরকারের কাছে দাবি, যদি কোনো সহযোগিতা করে তাহলে যেন তাড়াতাড়ি করে। অবরোধে আমাদের কোনো ইনকাম নেই, আমরা অনেক অসহায়।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, পিরোজপুরে জাটকা সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল নির্মূল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলায় ১৮ হাজার ২৫০ জন জেলের মাঝে ২৯২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও যদি কোনো সরকারি সহায়তা রমজান উপলক্ষে আসে সেগুলো জেলেদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

মো. তরিকুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।