মামার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৭

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ধর্ম মামার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে গ্রাম্য সালিশে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারপিট করে নির্যাতন করা হয়েছে।

নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। সালিশের নামে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুষ্টিয়াজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের রিপন আলীর স্ত্রী সালমা খাতুনের সঙ্গে ধর্ম মামা সুবলের অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ভাত খাওয়ার সময় স্থানীয় জনগণ ধরে নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে গভীর রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলের উপস্থিতি সালিশি বৈঠক বসে। সালিশে ওই গৃহবধূ ও ধর্ম মামাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। সেই সঙ্গে ধর্ম মামার ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।

 

তাৎক্ষণিকভাবে সালিশে ধার্য হওয়া ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সালিশের প্রধান ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুল তার জিম্মায় রেখে দেন।

নির্যাতনের কারণে ওই গৃহবধূ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও সালিশদাররা তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধা দেয়। তারা নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে।

ঘটনার চার দিন পর সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশ নির্যাতিত অসুস্থ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

kustiya

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ সালমা খাতুন জানান, তার শ্বাশুড়ি রুপজান নেছার সঙ্গে ধর্মের ভাই পাতিয়েছেন সুবল। সম্পর্কের কারণে গত ৩ বছর ধরে তাদের পরিবারের সঙ্গে সুবলের উঠা বসা চলছে।

ঘটনার দিন আমার অসুস্থ স্বামীর সুস্থতা কামনা করে বাড়িতে ধর্মীয় গানের আয়োজন করা হয়। এতে তার ধর্ম মামাও উপস্থিত থেকে গানের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানের কারণে ব্যস্ত থাকায় সারাদিন পরিবারের সকল সদস্য না খেয়ে ছিল। যে কারণে সন্ধ্যায় ধর্ম মামাসহ পরিবারের সবাই একত্রে খেতে বসলে স্থানীয় জনগণ সুবল ও তাকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে গভীর রাতে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশে তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাহাবুল, মিন্টু ও আশারুল ইসলাম কালু তাদের দুইজনকে ধরে বেধড়ক মারপিট করে।

নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সালিশে মারপিটের পাশাপাশি ধর্ম মামা সুবলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুল তার (সুবলের) মোটরসাইকেলটি নিজের জিম্মায় রেখে দেন।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ অভিয়োগ করেন, নির্যাতনের ফলে আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও সালিশদাররা আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করে এবং বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে।

তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুল সালিশ বৈঠক ডাকা এবং ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

ওসি জানান, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে মামলা করতে আগ্রহী নয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আল-মামুন সাগর/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।