জাপার পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি : বিবাদ মেটাতে পুলিশ ব্যর্থ
বরিশাল জাতীয় পার্টির (জাপা) দু`পক্ষের বিবাদ মেটাতে মেট্রোপলিটন পুলিশের নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বিবাদমান দু`পক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেও তাদের মধ্যে সমঝোতা করাতে পারেনি।
এদিকে, একই দিন এবং একই স্থানে জাতীয় পার্টির দু`পক্ষের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচির মধ্যেই সোমবার বরিশাল আসছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিবাদমান দু`পক্ষই এরশাদকে প্রধান অতিথি করে নগরীতে পোস্টার সাটিয়েছে। পাশাপাশি চলছে মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারণা।
অপরদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করতে জাতীয় পার্টির বিবাদমান দু`পক্ষের নেতাদের নিয়ে রোববার সকাল ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কিন্তু বৈঠকে দু`পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় বিপাকে পড়েছেন মেট্রো পুলিশের কর্মকর্তারা।
মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক একেএম মোর্তুজা আবেদীন জানান, সোমবার সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হবে। সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ প্রধান অতিথি এবং মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু, পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিশেষ অতিথি থাকবেন। এছাড়াও দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাংসদ এবং সাবেক মন্ত্রীরা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলন সফল করার জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় পার্টির পদ পদবী বিহীন একটি গ্রুপ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে একই সময় তৃণমূল জাতীয় পার্টির ব্যানারে কর্মী সম্মেলন আহ্বান করলেও তারা কোনো সহিংসতা ঘটাবে না বলে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছে। এরশাদের উপস্থিতিতে মহানগর সম্মেলন সফল করার জন্য পুলিশসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অপরপক্ষের নেতা জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মহসিন-উল ইসলাম হাবুল জানান, মেট্রো পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তাদের (সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি) সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি (হাবুল) পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সোমবার সকালে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে তৃণমূল জাতীয় পার্টির কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যে কোনো মূল্যে তৃণমূল সম্মেলন সফল করা হবে বলেও পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাল্টা-পাল্টি সম্মেলন হলেও জাতীয় পার্টির তৃণমূল গ্রুপ কোনো ধরনের সহিংসতা করবেনা বলে পুলিশের কাছে ওয়াদা দিয়ে এসেছে।
অধ্যক্ষ হাবুল বলেন, সোমবার ভোরে পার্টির চেয়ারম্যান লঞ্চযোগে বরিশাল পৌঁছাবেন। সেখান থেকে এরশাদকে নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় সার্কিট হাউজে এবং সেখান থেকে তাকে তৃণমূল জাতীয় পার্টির সম্মেলনে নিয়ে যাওয়া হবে।
অধ্যক্ষ হাবুল অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল বিভাগে জাতীয় পার্টির দুই জন সংসদ সদস্যের একজনও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনের বিষয়ে কিছু জানেন না। দলের অভ্যন্তরের একটি ষড়যন্ত্রকারী গ্রুপ পার্টির চেয়ারম্যানকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু অত্যন্ত বিচক্ষণ এরশাদ কোনোভাবেই দলকে বিপদে ফেলবেন না।
সমঝোতা বৈঠকের আয়োজনকারী মেট্রো পুলিশের উপ-কমিশনার মো. শোয়েব আহাম্মদ জানান, অশ্বিনী কুমার হলে এবং হলের সামনে জাতীয় পার্টির সম্মেলন হবে। সম্মেলনকে ঘিরে কোনো ঝামেলা করবেনা বলে দু`পক্ষই পুলিশের কাছে ওয়াদা (মুচলেকা) দিয়েছে। এর ব্যতিক্রম কিছু হলে মেট্রো পুলিশ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ১০টা অশ্বিনী কুমার হলে মহানগর জাপার কাউন্সিল এবং অশ্বিনী কুমার হলের বাইরের প্রাঙ্গণে জাপার পদবঞ্চিত নেতারা তৃণমূল কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেছে। উভয় গ্রুপের দাবি দলের চেয়ারম্যান এরশাদ তাদের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এর আগে বরিশালে সর্বশেষ জাতীয় পার্টির সম্মেলন হয়েছিল ২০০৫ সালে।
সাইফ আমীন/এআরএ/পিআর