প্রবাসী নারীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:৪৫ এএম, ৩১ আগস্ট ২০১৭

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীবের সহযোগিতায় উপজেলা চত্বরের সরকারি জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কাজী শেফালী নামে এক সুইডেন প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উপজেলায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া ইউএনও আলীমুন রাজীব একক ক্ষমতা বলে তার অফিসের কাঠামো পরিবর্তন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত সুইডেন প্রবাসী কাজী শেফালী শাহজাদপুর পৌর এলাকার পাঠানপাড়া মহল্লার মো. হেদায়েত উল্লাহর স্ত্রী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের পাশে ৮ বছর আগে ২০ শতক জায়গা ক্রয় করেন কাজী শেফালী নামে এক সুইডেন প্রবাসী। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের ১ শতক জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন।

বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আহমেদের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে শামীম আহমেদ স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিব পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় চলে গেলে সুযোগ পেয়ে যান শেফালী।

jagonews24

নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব যোগদান করার পরই দফায় দফায় এলাকার প্রভাবশালীরা তার সঙ্গে কথা বলে উপজেলা পরিষদের ১ শতক জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানান, উপজেলা পরিষদের জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করছেন অথচ ইউএনও মহোদয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এই কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুইডেন প্রবাসী কাজী শেফালীর চাচাতো ভাই দরগাহপাড়ার বাসিন্দা মো. বিপুল হোসেন জানান, নিজস্ব জায়গার উপর বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের জায়গা দখল করার প্রশ্নই আসে না। তবে জায়গাটি নিয়ে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মিমাংসা করে প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মমতাজ উদ্দিন জানান, উপজেলা পরিষদের পাশেই প্রায় ২০ শতক জায়গার উপর প্রাচীর দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছেন সুইডেন প্রবাসী কাজী শেফালী। জায়গা দখলের বিষয়টি নজরে আসলে তৎকালীন সময়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন ইউএনও শামীম আহমেদ স্যার। কিন্তু বর্তমান ইউএনও আলীমুন রাজীবের সঙ্গে কথা বলে তারা আবার বাড়ি নির্মাণ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের জায়গা মাপা হয়নি।

jagonews24

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমের অবকাঠামো কিভাবে পরিবর্তন করা হলো এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, উপজেলার মাসিক আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েই অফিসের অবকাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আমাদের সংরক্ষণে আছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীমুন রাজীবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলা পরিষদের জায়গা দখল করে যদি কেউ প্রাচীর অথবা বাড়ি নির্মাণ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা পরিষদের পাশে সুইডেন প্রবাসীরা প্রাচীর করে বাড়ি নির্মাণ করছেন শুনেছি। যদি সেখানে সরকারি জায়গা দখল করা হয় তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা ভেঙে দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই এসিল্যান্ডকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা পরিষদের যাবতীয় অবকাঠামো সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয় বিধি অনুযায়ী। সেই বিধি (অনুমোদন) নিয়েই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। যা নিয়মিত টিম ওয়ার্ক হিসেবে তিনি উল্লেখ্য করেন।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।