দৌলতদিয়ায় ঘরমুখো মানুষের চাপ
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নিতে ইট-কাঠের শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে রাজবাড়ির দৌলতদিয়ায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ফেরি ও লঞ্চগুলোর নদীপার হতে দ্বিগুন সময় লাগছে, যার কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনকে সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে। তবে ঢাকামুখি কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের কিছুটা চাপ থাকলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো পার করছে কর্তৃপক্ষ।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, পথে তাদের কোনো ভোগান্তি হয়নি। পড়তে হয়নি তেমন যানজটে। এবার ভাড়াও বেশি নেয়নি। নিরাপদে দৌলতদিয়া পর্যন্ত আসতে পেরে তারা অনেক খুশি। ঈদযাত্রায় তাদের কোনো ভোগান্তি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তারা।
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে এবং বিকেলের পর থেকে আরিচা-কাজিরহাট রুটের লঞ্চগুলোও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলবে।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট সুপারভাইজার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ঈদে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও লঞ্চে তারা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে না। এজন্য তারা লঞ্চের সারেংদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় সাবধানে যাত্রী পারাপারেও সারেংদের অনুরোধ করেছেন।

কুমারী ফেরির মাস্টার মাসুদুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নদী পার হতে তাদের দ্বিগুন সময় লাগছে। যার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, এ যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষ ফেরি সংখ্যায় বাড়িয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহনকে সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯টি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি ফেরি চলছে এবং দৌলতদিয়া প্রান্তের চারটি ফেরি ঘাটের চারটিই সচল রয়েছে। সবগুলো ফেরিঘাট ও ফেরি সচল থাকলে ঈদ যাত্রায় দৌলতদিয়া প্রান্তে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হবে না।
রুবেলুর রহমান/এফএ/আরআইপি