তিনটি বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকোতে চলছে ৭ গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:৪৫ এএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

৭ গ্রামের মানুষের ভরসা এখন তিনটি বাঁশ দিয়ে তৈরি বাঁশের সাঁকো। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া সড়ক বন্যার পানিতে ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তিনটি বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে মানুষ চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী হতে কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি, স্থলকাশি, ভালকুটিয়া, কোনাবাড়ি ও চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের হাজারও মানুষ গোবিন্দাসী কষ্টাপাড়া সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

গত বন্যায় যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করে গোবিন্দাসী-কষ্টাপাড়া-ভালকুটিয়া সড়ক ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাস খানেক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করে দেয়।

বর্তমানেও ওই সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোনো খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এছাড়া বন্যায় কষ্টাপাড়ার ঘোষপাড়ার রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষ চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ফলে ওই পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এদিকে সড়কটি ভেঙে গিয়ে বেসরকারি সংস্থা এসএসএস কার্যালয় ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছরেই বন্যার পানিতে একই জায়গায় ভেঙে গিয়ে আশপাশের পুকুরের মাছ, ফসলসহ বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও এখানে স্থায়ীভাবে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয় না। অতিদ্রুত এই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের।

এ প্রসঙ্গে গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য সোহরাব হোসেন জানান, ভেঙে যাওয়া রাস্তার ওপর ব্রিজ নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ওই স্থানে ভ্যান ও সিএনজিসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে বড় করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।