পাঠদান বন্ধ রেখে স্কুল প্রাঙ্গণে গরুর হাট!
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত থাকার কথা যে স্কুল প্রাঙ্গণ সেখানে বসছে গরুর হাট। হাটের দিন বন্ধ থাকছে পাঠদান কার্যক্রম। ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষকরাই তুলছেন হাট ইজারার টাকা।
শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে সাপ্তাহিক এ হাট নিয়মিত বসছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। স্কুলের বাড়তি আয়ের অজুহাতে পরিচালনা কমিটি এই হাট বসিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই হাট চলে আসলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এর সঙ্গে জড়িত থাকায় সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
স্কুল সূত্র জানায়, সপ্তাহের প্রতি রোববার ভবনের সামনের মাঠে নিয়মিতভাবে এই হাট বসে। সাটুরিয়া উপজেলার একমাত্র এ গরুর হাটে আশপাশের এলাকা থেকেও প্রচুর গরু আসে। গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণে শত শত গরু। ক্রেতা আর বিক্রেতায় মুখরিত হাট। প্রধান শিক্ষকের রুম খোলা থাকলেও বন্ধ ক্লাস। বারান্দায় বসে হাটের হাসিল লিখছেন তিন শিক্ষক।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আগে হাটের এ হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যেই ক্লাস চলত। কিন্তু এত শব্দে পড়াশুনায় মনযোগ থাকত না। তাছাড়া হাটের দিন যানবাহনের কারণে স্কুলে যাওয়া আসায়ও সমস্যা হয়। বিষয়টি সবাই মিলে শিক্ষকদের বলার পর বর্তমানে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ক্লাস করান। তারপরও হাটের কারণে ওই দিন অনেকেই স্কুলে আসার আগ্রহ দেখায় না।
হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ বজলুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, হাটের কারণে তাদের ক্লাসসূচিতে দুই সপ্তাহ ধরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি নিয়মে বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল হলেও এখানে করা হচ্ছে রোববার। রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ক্লাস নেয়া হয়। এরপর বন্ধ থাকে। ম্যানেজিং কমিটির সভায় নেয়া এ সিদ্ধান্তের কপি শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, গরুর হাট স্কুলের নামে ইজারা নেয়া। হাটের আয় দিয়ে স্কুলের ননএমপিও শিক্ষকদের বেতন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।
স্কুল আঙ্গিনায় গরুর হাটে পরিবেশ নষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,হাট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই স্কুলের কর্মচারীদের দিয়ে পরিস্কার করানো হয়।এতে কোন সমস্যা হয় না।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের সহধর্মীনি সাবেরা মালেক বর্তমান স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্লাস বন্ধ আর খেলার মাঠ নষ্ট করে স্কুল প্রাঙ্গণে গরুর হাট বসায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও অনেক এলাকাবাসী। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হাটের সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। একই কারণে এ বিষয়ে মাথা ঘামান না স্থানীয় প্রশাসন।
মানিকগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার জানান, অনেক বছর ধরেই এ হাট বসছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন সবারই জানা। এ নিয়ে প্রতিবেদন না করতেও অনুরোধ করেন তিনি।
স্কুল মাঠে গরুর হাট বসার বিষয়টি নজরে আনলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাসমুছ সাদাত সেলিম জাগো নিউজকে জানান, স্কুল চলাকালীন গরুর হাট বসলে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে না। অতিদ্রুত এই সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হবে।
বি.এম খোরশেদ/আরএআর/জেআইএম