নেত্রকোনায় কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৭:৫২ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
প্রধান আসামি গ্রেফতার

নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অবশেষে ঘটনার সাত দিন পর রোববার মামলা দায়ের করতে পেরেছেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা। মামলার একদিন পর সোমবার রাতে প্রধান আসামি মামুন মিয়া আকন্দকে (২৬) জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনায় ইউডি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুরতহাল তৈরি করা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাক আহমদকে পুলিশ লাইন্সে সরিয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহনূর আলমকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মামলায় নেত্রকোনা সদরের ঠাকুরাকোনা এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মামুন মিয়া আকন্দকে, মিয়াচানের ছেলে সুলতান মিয়া ও কাজল সরকারের ছেলে অপু সরকারকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অপু জেলা ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক উপ-সম্পাদক বলে জানা গেছে।

মেয়েটির মা অভিযোগ করে জাগো নিউজকে জানান, গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ঠাকুরাকোনা গ্রামের তিন তরুণ তার মেয়েকে (১৪) মাছের খামারে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যান। রাত ৮টার দিকে তিনি কৌশলে সেখানে গিয়ে তার মেয়েকে উদ্ধার করেন। তখন তার মেয়েকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। সে (তার মেয়ে) ঘরে এসে বলে ওই তিন তরুণ তাকে ধর্ষণ করেছে। কিছুক্ষণ পর তরুণদের মধ্যে একজন তাদের ঘরে এসে ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে ফেলে। পর দিন সোমবার বেলা ১১টার পর পাশের ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে তাদের জানান স্থানীয় লোকজন। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। মেয়েটির মা বাদী হয়ে রোববার নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কামাল হোসাইন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।