ইরানের সরকার পরিবর্তনে
‘কল্পনানির্ভর’ হামলা ইসরায়েলের, ফের আলোচনায় ৪৪০ কেজি ইউরোনিয়াম
ইরানের ওপর হামলা চালানোর সময় দেশটির ইসলামি সরকারের পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের কাছে ‘বাস্তবসম্মত’ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইসরায়েলের নেতানিয়াহু প্রশাসন ধারণা করেছিল, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হলে তা ইরানের জনগণের মাঝে ইসলামি সরকার বিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিবে এবং খামেনি প্রশাসন উৎখাত হবে।
তাই কোনো শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ‘কল্পনাশক্তির ওপর নির্ভর’ করে ইসরায়েলের এমন হামলা করেছিল। ইসরায়েলের কয়েকজন নিরাপত্তা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ বাহিনীর দুই সপ্তাহের টানা বোমা হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতউল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পরও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এদিকে যুদ্ধ ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে ওঠায় এই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাবেক ও বর্তমান ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যদি ইরানের নতুন নেতৃত্ব মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় টিকে যায় তাহলে এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করতে পারে ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্যের ওপর। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এই পরিমান ইউরোনিয়াম একটি পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে যায়।
এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব এবং এত পরিমাণ ইউরোনিয়াম উপাদান থেকে গেলে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারে।
ইরান নিয়ে কাজ করা এক সাবেক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এই ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি ও সাফল্য নির্ধারণের অন্যতম (লিটমাস) প্রধান পরীক্ষক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের এমন অবস্থায় থাকতে হবে যেখানে হয় এই উপাদান ইরানের বাইরে থাকবে অথবা এমন একটি সরকার থাকবে যাদের ওপর আস্থা রাখা যাবে যে তারা এটি দেশের ভেতরে যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখবে।
কেএম