বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ শহর রক্ষা বাঁধের ২৪টি পয়েন্টে ভাঙন


প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ১৪ জুন ২০১৫

গত দু’দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে ময়সনসিংহ শহর ও শহরতলীর প্রায় সব এলাকা তলিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এদিকে ভারী বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরের আট কিলোমিটার দীর্ঘ শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় সাড়ে ৩শ মিটার ভাঙনের কোথাও কোথাও বিশাল বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধের ২৪টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সার্কিট হাউজ সংলগ্ন সাহেব পার্কের প্রধান ফটকের পাশেই বিশাল ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পার্কের প্রধান রাস্তাটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নদের পানি বৃদ্ধির আগেই অতিদ্রুত ভাঙনকৃত অংশগুলো সংস্কার করা না হলে নদের গর্ভে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ ঘর-বাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে শহরবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান খান জানান, ২৪টি পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ৩শ মিটার ভাঙনে আনুমানিক কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সাময়িকভাবে মেরামত করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে ময়মনসিংহ শহরকে মুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেষ মোড় থেকে খাগডহর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয় বছর দশেক আগে। সেকেন্ডারি টাউনস ইন্টিগ্রেটেড ফ্লাড প্রটেকশন প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বাঁধ নির্মিত হয়। নিম্নমানের কাজের কারণে বর্ষা মৌসুম এলেই প্রতিবছরই কিছু না কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবার খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্রোতে নয়, অতি বৃষ্টিতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে ২৪টি পয়েন্টে। এদিকে রোববার সকাল থেকে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয়েছে।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম জানান, যেভাবে শহর রক্ষা বাঁধে ধস শুরু হয়েছে, তাতে এমন ভারী বর্ষণ আর দু’একদিন হলে সাহেব পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে।

পার্কের অাশপাশের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা কয়েকদিন থাকলে বড় রকমের ভাঙন দেখা দিবে। পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ঘর-বাড়ি নদীগর্ভেও বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শহরকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে বাঁচাতে এ বাঁধ নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ কাজে গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। পাউবো’র কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এমন নিম্নমানের কাজ করেছেন। যে কারণে দশ বছর যেতে না যেতেই পানির স্রোতে নয়, বর্ষণেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আতাউল করিম খোকন/এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।