শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কাছে হার মানেনি আরজিনা


প্রকাশিত: ০৭:০৪ এএম, ১৫ জুন ২০১৫

শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও হার মানেনি আরজিনা খাতুন। অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলে যেকোন অসাধ্য যে সাধন করা যায় তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে আরজিনা খাতুন। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জয় করে মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে এ শিক্ষার্থী রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ কৃতি শিক্ষার্থীর সাফল্যে পরিবারের সদস্য ছাড়াও শিক্ষক-সহপাঠী, এলাকাবাসী সবাই উচ্ছ্বসিত।

বানিয়াপাড়া এলাকার নৌকার মাঝি মজনু বিশ্বাসের মেয়ে আরজিনা খাতুনের কৃতিত্ব সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। আরজিনার বড় বোন মুসলিমা জানান, জন্মের পর থেকেই আরজিনা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তার দু’পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত বাইরের দিকে বাঁকা। আর ডান হাতের তালু থাকলেও ছোট ছোট আঙ্গুল দিয়েই লেখাপড়া চালিয়ে এসেছে সে। আরজিনা আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতো বেড়ে উঠতে না পারলেও শৈশব থেকেই লেখা-পড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল।

আরজিনার সহপাঠীরা জানায়, আরজিনা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি ছিল শতভাগ। পাঠদানের সময়ে তার আগ্রহ ও মনোযোগ ছিল গভীর।

আরজিনা জানায়, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছেন। বাবা নৌকার মাঝি। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের সংসার চলে।

আরজিনার পড়ালেখার পেছনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তার বড় ভাই। তাছাড়া পরিবারের সদস্যরাও তাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন। বড় ভাই নিয়মিত বাইসাইকেলে করে তাকে স্কুলে নিয়ে যেত। অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে কোনো প্রতিবন্ধকতাই বাধা হতে পারে না। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর তাই লেখাপড়া শেষ করে আরজিনা আদর্শ শিক্ষক হতে চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রশীদ বিশ্বাস বলেন, আরজিনা বরাবরই পড়ালেখায় ভালো ছিল। নবম শ্রেণীতে সে স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। তার অভাবনীয় এ সাফল্যে আমরা গর্বিত।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে আরজিনা। আমরা তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে স্যালুট জানাই। দরিদ্রতা যাতে তার পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে তাকে এক হাজার করে টাকা প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

আল-মামুন সাগর/এসএস/এমএস/এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।