জাফলংয়ে বেহাল সড়ক, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ভারতের মেঘালয় পর্বতের পাদদেশে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রকৃতিকন্যা জাফলং। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিত।

কিন্তু খানাখন্দে ভরা ভাঙা রাস্তা, কাদাজল ও ধুলা-ধূসরতার কারণে দিন দিন পর্যটকবিমুখ হয়ে পড়ছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। এতে আর্থিক লোকসানে পড়ছেন এই এলাকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক ব্যবসায়ী।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে জাফলংয়ের বল্লাঘাট থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সদর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। রাস্তার পিচ উঠে অনেক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচলের রাস্তাটি পরিণিত হয়েছে মরণফাঁদে।

অন্যদিকে ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানিকৃত কয়লা ও পাথর রাখার জন্য তামাবিল স্থলবন্দরের আশপাশ এলাকায় মহাসড়কের পাশে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সেই ডাম্পিং স্টেশন থেকে ট্রাকযোগে মালামাল-বোঝাই ও খালাস করার সময় যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও এই রাস্তা ধরে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে পর্যটক, কয়লা ও পাথরবাহী কয়েক হাজার যানবাহন। সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণেই জাফলংয়ে পর্যটক আগমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জাফলং পিকনিক সেন্টারের ইজারাগ্রহীতা সিরাজ আহমেদ জানান, ভাঙাচোরা ও বেহাল সড়কের কারণে জাফলংয়ে দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা কমছে। এর ফলে লাখ লাখ টাকা বিনোয়গ করে প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

জাফলং ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি লোকমান মিয়া জানান, একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলুপ্তির পথে অন্যদিকে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা এই দুটি সমস্যার কারণে জাফলংয়ে পর্যটকের আগমন হ্রাস পাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে সমস্যায় ঢাকা সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের সৌন্দর্য রক্ষা ও যাতায়ত ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত জানান, জৈন্তাপুর থেকে মামার বাজার পর্যন্ত সরকটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সকল প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসেই টেন্ডার আহ্বান করতে পারব। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

ছামির মাহমুদ/এএম/এমএস