চেয়ারম্যানের কারাভোগ ভোগাচ্ছে হাজারো মানুষকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নড়িয়া উপজেলার রাজনগর বেইলি ব্রিজ থেকে শৌলপাড়া সড়কের কাচারিকান্দি গ্রামের সেতুটি বন্যায় ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বন্যায় সেতুটি বিধ্বস্ত হলেও এখনও শুরু হয়নি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ।

তবে রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এম মামনু খানের ভাষ্য, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আমরা মানববন্ধন করেছি। এছাড়া মৌখিকভাবে নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি ও রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। তবে চেয়ারম্যান একটি মামলায় কারাগারে থাকায় সেতুটির কিছু করা যাচ্ছে না।’

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে কৃর্তিনাশা শাখা নদীর পানিতে প্রচণ্ড স্রোত থাকার কারণে বন্যায় বাঁধ ভেঙে কাচারিকান্দি গ্রামের ওই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেতুটির দক্ষিণ পাশের নিচের মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় সেতুটি ভেঙে পড়ে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে চলাচলের জন্য নৌকা অথবা দুই কিলোমিটার ঘুরে অন্য রাস্তা ব্যবহার করছে মানুষ। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ অথবা যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তালতলা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র শাহজাহান ও মৌমিতা জানান, এখানে তালতলা দাখিল মাদরাসা, তালতালা আলগাজ্জালি হাফিজিয়া মাদরাসা, হাসেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খিলগাঁও আমজাত হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী কাচারিকান্দি গ্রামের ওই সেতুটি দিয়ে যাতয়াত করতো। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তালতালা আলগাজ্জালি হাফিজিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মো. ইমরান হোসেন বলেন, আমার মাদরাসায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের ভেতর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আসা-যাওয়া কাচারিকান্দি গ্রামের ওই ব্রিজটি দিয়ে। দুই মাস হয়ে গেল ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের প্রায় ২ কিলোমিটার ঘুরে মাদরাসায় আসতে হয়, যেতে হয়। তাই দিন দিন মাদরাসার শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম, মো. মোবারক হোসেন মীরবহর, আলী জাব্বার মীর বহর ও মাসুদ রানা বলেন, কাচারিকান্দি, কুরবিরচর, দরবেশখার কান্দি, পোড়াকান্দি, হাসিরকান্দি, রাড়িকান্দি ও বিলদেওনিয়া গ্রাম থেকে হেঁটে ও গাড়িতে অল্প সময়েই বাজার অথবা মেইন সড়কে চলাচল করা যেত। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে। চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাই আমাদের দাবি দ্রুত সেতুটি মেরামত করা হউক অথবা নতুন সেতু করা হোক।

নড়িয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, সেতুটি ভেঙে পড়ে গেছে এ ব্যাপারে আমাদের কেউ জানাননি। তবে আমরা দেখছি কী করা যায়।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।