জাতীয় ঐক্য ছাড়া রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমারের আগ্রাসন মোকাবেলায় রাষ্ট্রের এখন শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য দরকার। রাষ্ট্রের সব শক্তিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য ছাড়া রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এরপরও এটি না করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নানা বিতর্কিত কথাবার্তা বলছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমারে নির্দয় শাসক গোষ্ঠী গণহত্যা, খুন, ধর্ষণের মতো অমানবিক নিপীড়ন চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে এখন সবচেয়ে বড় দরকার জাতীয় ঐক্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে হুঙ্কার ছাড়লেও এখন নোবেল পুরস্কারের আশায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ত্রাণ দখলে নিয়ে সরকার লোক দেখানো ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, যেখানে সারাদেশে দল ও মানুষের ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে সেখানে সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নানা কথা বলে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। বিজিবির প্রধান ২৫ আগস্ট হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। অথচ আজ ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২৬ ও ২৭ আগস্ট নাফ নদীতে রোহিঙ্গাদের মরদেহ দেখেও সরকার মানবিক হতে পারেনি। সে সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী ও মাদক আছে কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেত্রীর পুরস্কারের আশায় এখন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ২৮ আগস্টের দাবির প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বে এবং দেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি বদলে যায়। সমস্যার শুরু থেকে বিএনপি প্রতিদিন অভাবনীয় ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ পরিস্থিতি সামলাতে হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, কেন্দ্রীয় নেতা শরিফুল আলম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম