দিনাজপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহে ৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ১৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তারও আগে ২৯ মার্চ একজন রোগী ভর্তি হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ৫ জন শিশুর রক্ত হাম পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। একজন শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদাভাবে ১০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাম হলে সতর্ক থাকতে হবে। রোগীর কাছে অন্য শিশুদের যেতে দেওয়া যাবে না। রোগীকে আলাদা রেখে চিকিৎসা কতে হবে। কারণ এটি ছোয়াচে রোগ। হামের প্রথম উপসর্গই হচ্ছে জ্বর এবং মুখে র‌্যাশ, কানে, নাকে র‌্যাশ দেখা দেবে।

দিনাজপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

একজন আক্রান্ত রোগী কমপক্ষে ১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো শিশু জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে অথবা হাসপাতালে ভর্তি রেখে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেদৌস বলেন, এখন পর্যন্ত দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক শিশুর শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। সে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নাম ঠিকানা দিতে পারেননি।

এছাড়াও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলেও এক শিশু স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে চলে গেছে। আরেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ শিশুসহ হাকিমপুর, বিরামপুর, পার্বতীপুর কাহারোল এবং অন্যান্য উপজেলা থেকে ১০ জন শিশু শিশু সহ মোট ১৫ জনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের রিপোর্ট গুলো পেলে বলা যাবে তারা হাম পজিটিভ কিনা।

এমদাদুল হক মিলন/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।