চুরির অপবাদে ২ পরিবার একঘরে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চুরির অপবাদে দুটি পরিবারকে একঘরে করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাম্য সর্দারদের নেতৃত্বে ওই দুই পরিবারে ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল সোমবার সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই পরিবার দুটির নারী-শিশুসহ পুরুষ সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তবে অভিযুক্ত সর্দারদের দাবি, পরিবার দুটি চিহ্নিত গরুচোর। তাদের যন্ত্রণায় গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পুলিশের সাথে কথা বলেই গ্রামের সবাই মিলে চোরদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তাদেরকে একঘরে করার অভিযোগ সঠিক নয়। তারা বাজার-সদাই সবকিছুই করতে পারছেন। তাদেরকে কোনো কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ আগে বিরামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা রমজান মিয়ার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সেন্টু মিয়া একটি রূপার চেইন একই গ্রামের আরেক যুবকের কাছে পাঁচশ টাকায় বিক্রি করে।
এরপর গত ১ অক্টোবর ওই যুবক চেইন ফিরিয়ে দিয়ে টাকা নিতে চাইলে সেন্টু অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরদিন সকালে গ্রামের কতিপয় সর্দার হোসেন মেম্বার ও জসিম মেম্বারের সহায়তায় একটি পক্ষ রমজান মিয়ার বাড়ির দুটি ঘরসহ ওই পাড়ার আটটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তারা রমজান মিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গরু চুরিরও অভিযোগ আনে।
ভুক্তভোগী এক পরিবারের কর্তা রমজান মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, হামলাকারীরা আমাদের কয়েকজনকে মারধরও করেছে। হামলার ঘটনার পর গ্রামের সর্দাররা আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করে দিয়েছেন। এখন আমাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে তার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে সর্দাররা।
তবে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. হোসেন মিয়া বলেন, বিরামপুর গ্রামকে চোরমুক্ত করতে গ্রামের অনেকে মিলে উদ্যোগ নিয়েছে। রমজান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশের সাথে কথা বলেই তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে গ্রামবাসী।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নবীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশের সাথে কথা বলে বাড়ি-ঘরে হামলা চালানোর কথা সঠিক নয়। ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দিলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজিজুল সঞ্চয়/এএম/এমএস