শরীয়তপুর

দুই আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে বিএনপি সমর্থকদের বাধার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

শরীয়তপুরের দুইটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণায় বাধার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা সমন্বয়কারীরা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউলের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ জমা দেন। এর আগে আরেকটি অভিযোগ করেন শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট) জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের নিবার্চনি পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ।

লিখিত অভিযোগ সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলার তিনটি আসন থেকে ২১ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর বুধবার থেকে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তাদের সমর্থকরা। শনিবার শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসন সখিপুরের চরকুমারিয়া ইউনিয়নের বাহের চর মকবুল হোসেন মোল্লা কান্দি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ নেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউলের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া ও কর্মীরা।

এসময় সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির সমর্থকরা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়াও তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা নির্বাচনি প্রচারণার সামগ্রী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনায় রোববার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মোর্শেদা হক পাপিয়া।

অপরদিকে গত শুক্রবার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চর ধানকাঠি এলাকার আক্তার বেপারীর বাড়িতে মহিলা জামায়াতের নিবার্চনি প্রচারণার অংশ (নারীদের নিয়ে তালিম) চলাকালে বাধা দেওয়া ও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় যুবদল নেতা কাদের মৃধা ও মনির মৃধাসহ তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এসময় বাড়ির মালিক আক্তার বেপারী ও শিমুল বেপারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। পরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আজহারুল ইসলামের সাথে মোবাইলফোনে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় নিবার্চনী পরিবেশে সুন্দর রাখার দাবিতে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলামের নিবার্চনি পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউলের বোন মোর্শেদা হক পাপিয়া বলেন, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনি প্রচারণা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। এতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের নিরবতার সুযোগ নিয়ে বারবার এমন বাধা দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের নিবার্চনি পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও চিফ এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিএনপি প্রার্থী দুঃখ প্রকাশ করায় আমরা আইনি পদক্ষেপ নেইনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন আমাদের নির্বাচনি প্রচারণায় তার লোকজন আর বাধা সৃষ্টি করবে না। বিষয়টি আমরা সহকারী কর্মকর্তাকে জানিয়ে রেখেছি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লা। তিনি বলেন আমি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এমনকি আমি পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি জামায়াত প্রার্থীর কোনো লোকজন ওই এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে আসেনি। কেন আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে আমি বুঝতে পারছি না। মিথ্যা প্রচারের কারণে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর নির্বাচনি প্রচার ও মিডিয়া সেলের প্রধান শহিদুল ইসলাম বলেন, সেদিন সেখানে তারা নির্বাচনি আচারণবিধি ভেঙে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে প্রচারণা চালাচ্ছিল। তখন স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চাইলে দুই পক্ষের লোকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তবে দুই প্রার্থী কথা বলে বিষয়টি সমঝোতা করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, এমন একটি খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে দুই প্রার্থী সমঝোতা করে ফেলায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জেলা রিটানিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

বিধান মজুমদার অনি/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।