যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর শরীরে ছ্যাঁকা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে তানিয়া আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে জ্বলন্ত মোমের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে রূপগঞ্জ থানায় গৃহবধূ তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন স্বামী রুমান, শাশুড়ি সুবেছা বেগম, শ্বশুর সাইজুদ্দিন, ননদ রুমি আক্তার।
এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাড়িয়াছনী এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ তানিয়া আক্তার উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের হোনাব নয়াবাড়ি এলাকার ফজলুল হক মিয়ার মেয়ে।
গৃহবধূ তানিয়া আক্তার জানান, দুই বছর আগে উপজেলার বাড়িয়াছনী এলাকার সাইজুদ্দিনের ছেলে রুমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তানিয়া আক্তারের বাবা ফজলুল হক স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল প্রদান করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রুমান তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত।
বেশকিছুদিন ধরেই স্বামী রোমান, শাশুড়ি সুবেছা বেগম, শ্বশুর সাইজুদ্দিন, ননদ রুমী আক্তার তানিয়া আক্তারকে তার বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। সোমবার রাতে স্বামী রুমান গৃহবধূ তানিয়া আক্তারকে তার বাবার বাড়ি থেথে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। তানিয়া আক্তার তার বাবার বাড়ি থেকে রুমানকে কোনো ধরনের যৌতুকের টাকা এনে দিতে পরবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী রোমান তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে স্বামী রুমান, শাশুড়ি সুবেছা বেগম, শ্বশুর সাইজুদ্দিন, ননদ রুমি আক্তার তাকে জলন্ত মোম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন চালায়। তানিয়া আক্তারের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন তানিয়া আক্তারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে স্থানীয়রা তানিয়া আক্তারকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মীর আব্দুল আলিম/আরএআর/আরআইপি