যবিপ্রবিতে হামলা : ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মধ্যরাতে তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসানসহ সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৩০/৪০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে হামলায় ৩০ লাখ টাকার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, আইফোন, হাতঘড়ি, এক লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা লুট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই দিনের হামলায় ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মাসকাটা গ্রামের এমএম মোহর আলীর ছেলে এসএম শামীম হাসান, মশিয়ুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ গ্রামের কার্ত্তিক চন্দ্র দে’র ছেলে বিপ্লব কুমার দে, যবিপ্রবি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শেখ আলতাফ হোসেনের ছেলে তানভীর ফয়সাল, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বধুপুর গ্রামের মুন্সী গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন সিমন, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকার আশুলিয়া এলাকার ধলপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মাসুদুর রহমান রনি, শহীদ মশিয়ুর রহমান হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে তানভীর আহমেদ তানিন এবং যবিপ্রবি পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়া গ্রামের শহিদ খন্দকারের ছেলে আশিক খন্দকার। এছাড়া ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৪০ মিনিট হতে রাত ৩টার মধ্যে ক্যাম্পাসে এসএম শামীম হাসানের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। আসামি ও বহিরাগত ৩০-৪০ জনের একটি দল ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এসে কর্তব্যরত আনসার সদস্য সোহেল রানা, নাসির মণ্ডল ও উজ্জ্বল হোসেনকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কয়েকজন জিম্মি করে রাখে। এসএম শামীম হাসানের নেতৃত্বে ওই দলটি শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে প্রবেশ করে। হলের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় থাকা ছাত্রদের রুমে প্রবেশ করে তাদের মারপিট শুরু করে। হলে থাকা ছাত্রদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, মোবাইল আইফোন ও কয়েকটি হাতখড়িসহ নগদ অর্থ যার যা ছিল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
পাশাপাশি ছাত্রদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে শামীমসহ কয়েকজন ছাত্র ও মুখোশধারী বহিরাগত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ সময় হলের বিভিন্ন রুমের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে তারা।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ওই তাণ্ডবের পর শনিবার রিজেন্ট বোর্ডের ৪৪তম সভায় শামীমসহ সাত ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি।
মিলন রহমান/এএম/আইআই