বিচার চেয়ে ডিআইজির পা ধরে কাঁদলেন মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ১২ অক্টোবর ২০১৭
বিচার চেয়ে ডিআইজির পা ধরে কাঁদলেন মা

ছেলে কিশোর পারভেজের (১৩) হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ডিআইজির পা ধরে কাঁদলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজলার খাজুরবাড়িয়া গ্রামের পারভেজের মা দিনমজুর ফাতেমা বেগম ও বাবা দুলাল দালাল।

বিচার চেয়ে বারবার থানায় গিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে ডিআইজিসহ অন্যান্য পুলিশ কর্তাদের সামনেই অভিযোগ করেন মা ফাতেমা বেগম।

গরিব বলে কি ছেলে হত্যার বিচার পাব না? এমনই প্রশ্ন ডিআইজির কাছে ছোড়ে দেন সন্তানহারা মা ফাতেমা বেগম ও বাবা দুলাল দালাল। এ সময় ডিআইজিকে কাছে পেয়ে উপস্থিত সাধারণ জনগণও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা কথা বলেন।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাউফলের কালাইয়া-দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বিট পুলিশিং কার্যক্রম ও অভিযোগ বক্স স্থাপনকালে উপস্থিত বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ পারভেজের মা ও বাবা।

এ সময় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান, সার্কেল এসপি সাহেব আলী পাঠান, বাউফল থানা পুলিশের ওসি আযম খান ফারুকীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফাতেমা বেগমের আকুতি শুনে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে তাৎক্ষণিক ডিআইজি মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের তার দিয়ে পারভেজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করে কালাইয়া ডালিমা রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।

পুলিশ পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পারভেজের হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় ইছাহাক দালালের ছেলে আলম, বাবুল দালালের ছেলে নিজাম ও তাজু দালালের ছেলে জলিল জড়িত বলে পারভেজের বাবা দুলাল দালাল ও মা ফাতেমা বেগম থানায় একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ হত্যা মামলায় কাউকে সন্দেহ করে আসামি করা যায় না বলে তাদের বারবার ফিরিয়ে দেন।

জানতে চাইলে বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা )ওসি) আযম খান ফারুকী বলেন, ডিআইজি স্যারের নির্দেশ মোতাবেক মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বাউফল থানা পুলিশও প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রাখবে বলেও জানান ওসি।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি