মরিচের ঝালে জিরো থেকে হিরো
মরিচ চাষ করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঝিনাইদহের অনেক কৃষক। ঝিনাইদহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মরিচ চাষ হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে মরিচ চাষের হিড়িক আরও বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদার বিবেচনায় চাষিরা ঝুকেছেন মরিচ চাষে।
মরিচ চাষ করে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন এমনই একজন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাজিডাংগা গ্রামের কৃষক নহর আলী। ৬ বিঘা জমিতে তিনি এ বছর মরিচ চাষ করেছেন। সপ্তাহে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ বিক্রি করছেন এই কৃষক। এ বছর এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন তিনি।
ঠিক একই কথা জানালেন ওই গ্রামের আরেক কৃষক আজিজুর রহমান। তিনি এ বছরে ৮ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে সপ্তাহে ১২/১৪ মণ করে মরিচ বিক্রি করছেন।

ওই গ্রামের কৃষক শরিফুল এবং সাইফুল জানান, মরিচ চাষে অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় তারা এখন ধান ও পাটের চাষ ছেড়ে দিয়ে মরিচ ও সবজির আবাদ করছেন। অল্প খরচে চাষ করে ভালো ফলন এবং তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।
ঝিনাইদহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন মরিচের চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উঁচু যেসব জমিতে অন্য ফসল ভালো জন্মে না সেইসব জমিতে কৃষকেরা মরিচ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষকেরা জানান, প্রতিবিঘা জমি থেকে ২৫ খেকে ৩০ মণ কাঁচামরিচ উৎপাদন হয়। বিঘা প্রতি মরিচ উৎপাদনে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত মরিচ বিক্রয় করলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজা টাকা পাওয়া যায়। যা এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি করা হচ্ছে। তবে সদর উপজেলা ছাড়াও কোটচাঁদপুর, উপজেলার শারুটিয়া, শিবনগর ও লক্ষীপুর এলাকায় বেশি মরিচের চাষ হচ্ছে। অল্প জমিতে বেশি ফলন এবং অধিক মূল্য পাওয়া যাচ্ছে বলে কৃষকরা নতুন করে মরিচ চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সাড়ে ৮শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছিল। এবছর মরিচ আবাদ করা হয়েছে সাড়ে ৯শ হেক্টর জমিতে। মরিচ চাষে শুধু চাষিরাই নয়, শ্রমিকরাও লাভবান হচ্ছেন। মরিচ খেতে কাজ করে সংসারে বাড়তি আয় করতে পারছেন নারী শ্রমিকরাও।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শংকর কুমার মজুমদার জানান, বাণিজ্যিকভাবে মরিচের আবাদ বাড়ছে। জেলার ছয় উপজেলায় মরিচ চাষ করা হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে ফলন হয় ৭০-৭৫ টন। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রান্তিক চাষিদের নানারকম প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় দিন দিন মরিচের চাষ বেড়ে চলেছে বলে জানান তিনি।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর