কবে আসবে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৭:২৩ এএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৭
ফাইল ছবি

১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষিধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে সরকারের। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না শরীয়তপুরের ৬ উপজেলার জেলেরা। সহায়তা না পেয়ে জেলে পরিবারের সদস্যরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

জসিম রাড়ি, রশিদ সরদার, জহির বেপারীসহ অনেক জেলে বলেন, আমরা সরকারের আইন মানতে গিয়ে উপোস করছি। আবার আইন না মানলে জেল-জরিমানার ভয় রয়েছে। আমরা মহাবিপদে আছি। তাই সরকারি খাদ্য সহায়তা পেলে কোনো রকমে খেয়ে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারতাম।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের নরসিংহপুর আড়তের আড়তদার মোক্তার খান বলেন, আমার ১ হাজার ৫০০ জেলে রয়েছে। যারা আমার আন্ডারে কাজ করেন। এই জেলেরা গত বছরগুলোতেও সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়নি। এবছরও মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তাদের খাদ্য সহায়তা জোটেনি।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের নরসিংহপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি দুলাল খান বলেন, নরসিংহপুরে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার জেলে আছেন যারা ইলিশ ধরে জীবিকা চালান। একদিকে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা। আরেকদিকে নেই সরকারি খাদ্য সহায়তা। তাই নিরুপায় হয়ে জেলেরা ধারদেনা করছেন।

জেলা মৎস্য অফিসের মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৪৫ জন। সদর ১ হাজার ৫২০ জন, নড়িয়া ৪ হাজার ৯৪৮ জন, জাজিরা ৩ হাজার ৪৩৪ জন, ডামুড্যা ১ হাজার ২ জন, ভেদরগঞ্জ ১৫ হাজার ৪১০ জন ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৬ হাজার ৭৩১ জন জেলে রয়েছে। তারমধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৫ জন গত বছর সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়েছিলেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুস ছালাম জানান, এখনও সরকারিভাবে জেলেদের জন্য কোনো সহায়তা আসেনি। দেবে কিনা তাও বলতে পারছি না। কখন দেওয়া হবে এ বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

ছগির হোসেন/এফএ/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।