রাজার বয়স বেশি হওয়ায় বর্ষার সন্তান হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৭

চট্টগ্রাম থেকে ঘর বাঁধার আশায় বর্ষাকে নিয়ে আসা হয়েছিল রংপুরে। ঘর আছে, আছে রাজার সঙ্গে বর্ষার সখ্যও। শুধু ঘর আলো করার মতো নেই কোনো সন্তান। প্রায় বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তবুও রাজা-বর্ষার সন্তান না হওয়ায় উদ্বিগ্ন যেমন কর্তৃপক্ষ তেমনি হতাশ দর্শনার্থীরাও।

গত বছরের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে রাজার সঙ্গী হিসেবে বর্ষাকে নিয়ে আসা হয় রংপুর চিড়িয়াখানায়। এর বদলে রংপুর থেকে রাজার ভাই বাদশাহকে পাঠানো হয় সেখানে। রংপুর থেকে বাদশাহকে নিয়ে যাওয়ার পর বেশ ঘটা করেই ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাদশাহর সঙ্গে বর্ষার বোন নোভার বিয়ে হয়।

এদিকে, বর্ষাকে রংপুরে নিয়ে আসার পর দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় আলাদা রেখে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর অনেকটা নীরবেই রাজা-বর্ষার মিলন ঘটে রংপুর চিড়িয়াখানায়। সিংহ রাজার সঙ্গে সিংহী বর্র্ষাকে এক ঘরে থাকতে দেয়া হয়। প্রায় এক ছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করলেও আজ অবদি কোনো সন্তান হয়নি।

lion

রোববার রংপুর চিডিয়াখানায় গিয়ে কথা হয় ধাপ কটকীপাড়া থেকে আসা গৃহিণী সায়মা হক পুতুলের সঙ্গে। তিনি তার দুই বছর বয়সী ছেলে আফফানকে নিয়ে এসেছেন চিড়িয়াখনায়।

পুতুল জাগো নিউজকে বলেন, অনেক দিন আগেই তো শুনেছি চট্টগ্রাম থেকে বর্ষাকে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ অবদি তাদের কোনো সন্তান হচ্ছে না। তাদের নবজাতককে দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

রংপুর চিড়িয়াখানার কর্মচারী নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বর্ষা চট্টগ্রাম থেকে আসার পর কিছুদিন বিষন্ন ছিল। ধীরে ধীরে দুইজনের মধ্যে ভাব তৈরি হয়। অনেক দর্শনার্থী এসে তাদের বাচ্চার খবর জানতে চায়। এদের বাচ্চা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

lion

রংপুর চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা ডা. এইচ এম শাহাদত জাগো নিউজকে জানান, রংপুর চিড়িয়াখানায় দুটোই সিংহ। অপরদিকে চট্টগামে দুটো সিংহী। এদের বংশ বৃদ্ধির কারণে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম থেকে বর্ষা নামে এক সিংহীকে গত বছর রংপুরে নিয়ে আসা হয়।

সেই সঙ্গে বর্ষার আরেক বোন নোভার সঙ্গী হিসেবে রংপুর থেকে বাদশাহকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, শারিরীকভাবে সিংহী বর্ষা সন্তান ধারণে সক্ষম হলেও সিংহ রাজার বয়স বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জিতু কবীর/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।