যশোরে আটক জেএমবির রিমান্ড আবেদন
যশোরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার ও নব্য জেএমবির সংগঠক মোজাফফর আটকের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার গভীররাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন কোতোয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক বাবুল মিয়া।
মঙ্গলবার বিকেলে আটক মোজাফফরকে আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে মোজাফফরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদহ মালোপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের আগেই আটক করা হয় আস্তানার মালিক মোজাফফর হোসেনকে। রাত পৌনে ৮টার দিকে বাড়িটি ঘিরে রাখার পর অভিযান শুরু হয় এবং রাত ১০টার দিকে তা শেষ হয়। এরপর ব্রিফিং করেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির মালিক মোজাফফর হোসেনকে সোমবার সন্ধ্যায় শহর থেকে আটক করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫০টি গ্রেনেডের বডি, সুইচ ৫০টি, ৩১টি ব্রেকার, ১টি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ৫ লিটার অ্যাসিডসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
মোজাফফরের প্রতিবেশি সাঈদুর রহমান জানান, বাড়িটির মালিক মোজাফফর প্রায় একযুগ আগে এখানে বাড়িটি নির্মাণ করেন। আধাপাকা টিনসেডের বাড়িতে মোজাফফর স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে থাকেন। তিনি যশোর এমএম কলেজ পুরাতন ছাত্রাবাসের মসজিদে ইমামতি করেন। তার স্ত্রী রাজিয়া দর্জির কাজ করেন।
উল্লেখ্য, এনিয়ে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যশোরে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলল। এর আগে গত ৮ অক্টোবর রোববার যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে।
মিলন রহমান/এমএএস/এমএস